দীর্ঘ এক দশকের অন্ধকার ও তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের ‘ভয়ংকর অত্যাচার’ কাটিয়ে অবশেষে নিজের ভিটেমাটিতে পা রাখল সন্দেশখালির কয়েকশো মানুষ। বুধবার উত্তর ২৪ পরগনার খাস শাকদা এলাকায় এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যখন শেখ শাহজাহানের একাধিপত্য ও ‘তৃণমূলের অপশাসন’ শেষ হতেই বিজেপি কর্মীদের হাত ধরে প্রায় ২০০টি পরিবার গ্রামে ফিরে আসে।
সন্দেশখালির এই জনপদ দীর্ঘকাল ধরে শেখ শাহজাহানের নিজস্ব ‘সাম্রাজ্য’ হিসেবে পরিচিত ছিল। অভিযোগ, সেখানে আইনের শাসন নয়, চলত শাহজাহান ও তার বাহিনীর মর্জিমতো শাসন। সাধারণ মানুষের জমি দখল থেকে শুরু করে মহিলাদের ওপর অকথ্য নির্যাতন এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের গ্রামছাড়া করা ছিল শাহজাহান বাহিনীর নিত্যনৈমিত্তিক কাজ। স্থানীয়দের দাবি, এই বাহিনীর অত্যাচারে সন্দেশখালির মানুষের রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছিল। গত কয়েক বছরে এই জনপদের মানুষের ন্যূনতম গণতান্ত্রিক অধিকারটুকুও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল বলে বারবার অভিযোগ উঠেছে।
এদিন গ্রামে ফিরেই কান্নায় ভেঙে পড়েন সিরাজুল শেখ নামে এক ভুক্তভোগী। তিনি বলেন, “শাহজাহান শেখ ও তাঁর দলবলের অত্যাচারে আমরা দীর্ঘ ১০ বছর এলাকাছাড়া ছিলাম। শুধু বিজেপি করার অপরাধে ওরা আমাদের ঘরবাড়ি অন্তত ১০ বার লুটপাট করেছে। আজ বিজেপি কর্মীদের সহায়তায় ঘরে ফিরলেও বুক কাঁপছে, কারণ শাহজাহানের হার্মাদ বাহিনী এখনও এলাকায় অস্ত্র নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।”
আরেক প্রবীণ বাসিন্দা আনসার আলি শেখের চোখেও জল। তিনি জানান, রাজনৈতিক আক্রোশের শিকার হয়ে তাঁর ছেলেরা ১০ বছর যাযাবরের মতো ঘুরে বেরিয়েছে, নিজের বাড়িতে থাকার সাহসটুকু পায়নি। অন্যদিকে, শেখ আতাউর রহমান সরাসরি প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, বিজেপি কর্মীদের ভরসায় তাঁরা আজ ঘরে ফিরলেও প্রশাসন যদি পূর্ণ নিরাপত্তা না দেয়, তবে এই শান্তি দীর্ঘস্থায়ী হবে না।
তৃণমূলের এই কথিত অপশাসন শেষ হওয়ার পর বিজেপির এই উদ্যোগকে খাস শাকদার বাসিন্দারা সাধুবাদ জানালেও, ফিরে আসা পরিবারগুলোর চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট। এলাকায় পুনরায় অশান্তি এড়াতে কড়া পুলিশি নজরদারির দাবি তুলেছেন গ্রামবাসীরা। তবে এই স্পর্শকাতর বিষয়ে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।





