দীর্ঘ চার বছর পর দুদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে এসেছেন রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রটোকল ভেঙে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে স্বাগত জানাতে পালাম বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন। আজ শুক্রবার রাষ্ট্রপতি ভবনে তাঁকে ‘গার্ড অফ অনার’ দিয়ে সম্মানিত করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।
এই দুদিনের রাষ্ট্রীয় সফরের মাধ্যমে দুই দেশের নেতারা শুধু কূটনৈতিক আলোচনাই করবেন না, বরং বহুমুখী সহযোগিতা এবং দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের নতুন অধ্যায় লিখবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এটি ২৩তম ভারত-রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনের অংশ।
রাষ্ট্রপতি ভবনে সম্মাননা: সকাল ১১টার দিকে পুতিন রাষ্ট্রপতি ভবনের ফোরকোর্টে পৌঁছন। লাল কার্পেট এবং জাতীয় সঙ্গীতের সুরে পরিবেষ্টিত এই স্থানে ভারতীয় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর অটল যোদ্ধারা তাঁকে গার্ড অফ অনার দেন। ২১ কামানের গর্জনে রাশিয়ান অতিথিকে স্বাগত জানানো হয়। প্রথমে ভারতের, তারপর রাশিয়ার জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়। পুতিন নিজে গার্ড অফ অনার পরিদর্শন করেন এবং ভারতীয় যোদ্ধাদের সঙ্গে হ্যান্ডশেক করেন।
এই মুহূর্তটি দুই জাতির মধ্যে অটুট বিশ্বাস এবং ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের প্রতিফলন। রাষ্ট্রপতি মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী মোদি পুতিনকে স্বাগত জানান এবং দুই দেশের প্রতিনিধিদের পরস্পর পরিচয় করিয়ে দেন। অনুষ্ঠানে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করসহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গান্ধীজিকে শ্রদ্ধা: রাষ্ট্রপতি ভবনের আনুষ্ঠানিকতার পর পুতিন সোজা রাজঘাটে যান। সেখানে মহাত্মা গান্ধীর সমাধিস্থলে তিনি ফুলার্ঘ্য নিবেদন করেন। এই কাজটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে শান্তি ও অহিংসার বার্তা বহন করে।
গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক: রাজঘাট থেকে ফিরে পুতিন হায়দ্রাবাদ হাউসে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন। এই বৈঠকের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল:
ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তিপূর্ণ সমাধান।
বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং তা ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্য।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, বিশেষ করে এস-৪০০ মিসাইল সিস্টেমের চুক্তি।
ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের ইতিহাস সোভিয়েত আমল থেকে অটুট। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে রাশিয়ার (তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন) সমর্থন ভারতের জন্য অবিস্মরণীয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি বেড়েছে, যা বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও ভারতের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করেছে। আজকের শীর্ষ সম্মেলনে নতুন চুক্তিগুলো স্বাক্ষরিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।