শান্তির নীড়ে রক্তের হোলি! কেন হঠাৎই একে অপরের ‘জান লড়িয়ে’ দিল শিম্পাঞ্জিরা?

প্রকৃতি জগতের সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী হিসেবে পরিচিত শিম্পাঞ্জিরা সাধারণত দলবদ্ধ এবং শান্তিপূর্ণভাবে থাকতেই পছন্দ করে। কিন্তু আফ্রিকার গোম্ব্বে (Gombe) জাতীয় উদ্যানে ঘটে যাওয়া এক ঐতিহাসিক ঘটনা প্রাণীবিজ্ঞানীদের স্তম্ভিত করে দিয়েছিল। সেখানে দেখা গিয়েছিল, দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিন্ন করে কীভাবে এক মারাত্মক গৃহযুদ্ধে মেতে উঠেছিল তারা।

যেখান থেকে বিবাদের সূত্রপাত ১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে গোম্ব্বে স্ট্রিমে শিম্পাঞ্জিদের একটি বড় দল হঠাৎই দু’ভাগে ভাগ হয়ে যায়। উত্তরের দলটি পরিচিত হয় ‘কাসাকেলা’ (Kasakela) নামে এবং দক্ষিণের দলটি ‘কাহামা’ (Kahama) নামে। গবেষকদের মতে, দলের ভেতরে আধিপত্য বিস্তার এবং নেতৃত্বের কোন্দল থেকেই এই বিভাজনের শুরু। এক সময় যারা একই গাছে ফল খেত বা একে অপরের শরীর পরিষ্কার করে দিত, তারাই একে অপরের চরম শত্রুতে পরিণত হয়।

ভয়াবহ সেই গৃহযুদ্ধ প্রায় চার বছর ধরে চলা এই লড়াইকে বিজ্ঞানীরা নাম দিয়েছেন “গোম্ব্বে শিম্পাঞ্জি যুদ্ধ”। এটি কোনো সাধারণ ঝগড়া ছিল না। কাসাকেলা দলের পুরুষ শিম্পাঞ্জিরা দলবদ্ধভাবে কাহামা দলের সদস্যদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালাতে শুরু করে। অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে তারা একে একে কাহামা দলের প্রতিটি পুরুষ সদস্যকে হত্যা করে। এমনকি মহিলারাও এই হিংস্রতা থেকে রেহাই পায়নি।

হিংস্রতার কারণ কী? বিখ্যাত প্রকৃতিবিদ জেন গুডঅল এই ঘটনা দেখে অত্যন্ত বিচলিত হয়েছিলেন। গবেষণায় দেখা যায় যে, মানুষের মতো শিম্পাঞ্জিদের মধ্যেও রয়েছে এলাকা দখল এবং গোষ্ঠীগত শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের আদিম আকাঙ্ক্ষা। যখন একটি পক্ষ অপর পক্ষকে সহ্য করতে পারে না, তখন সেই ঘৃণা এতটাই তীব্র হয় যে তারা নিজেদের প্রজাতিকেই নির্মূল করতে দ্বিধাবোধ করে না।

উপসংহার শিম্পাঞ্জিদের এই দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ প্রমাণ করে যে, যুদ্ধ বা সংঘাত কেবল মানুষের একচেটিয়া নয়। প্রকৃতির গভীরেও লুকিয়ে আছে ক্ষমতার লড়াই আর চরম শত্রুতার বীজ। ৪ বছর পর কাহামা দলটির সম্পূর্ণ বিলুপ্তির মাধ্যমেই শেষ হয় এই রক্তাক্ত অধ্যায়, যা আজও প্রাণী জগতের এক কালো ইতিহাস হয়ে আছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy