শরীরের এই গোপন নালীটি পরিষ্কার করলেই কমবে ৩ কেজি ওজন, ম্যাজিক টেকনিকটি জানেন কি?

আমাদের শরীরে রক্তনালীর পাশাপাশি সমান্তরালভাবে বয়ে চলে আরও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অলক্ষিত নালী—যার নাম লসিকা বা লিম্ফ্যাটিক সিস্টেম। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এর মূল কাজ তিনটি। প্রথমত, এটি কোষ থেকে বেরোনো বর্জ্য, ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া এবং শরীরের অতিরিক্ত নোংরা জল টেনে নেয়। দ্বিতীয়ত, ঘাড়, বগল ও কুঁচকিতে থাকা লসিকা গ্রন্থি বা ‘লিম্ফ নোড’ এই নোংরা ছেঁকে বিষাক্ত জীবাণু মেরে শরীরকে ফিল্টার করে। তৃতীয়ত, লসিকায় থাকা শ্বেত রক্তকণিকা (WBC) সরাসরি যে কোনও ইনফেকশনের বিরুদ্ধে লড়াই করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তবে রক্তের মতো লসিকার নিজস্ব কোনও ‘পাম্প’ বা হার্ট নেই। এটি মূলত মানুষের শারীরিক নড়াচড়া ও শ্বাস-প্রশ্বাসের ওপর নির্ভর করে পরিচালিত হয়। ফলে দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করলে, জাঙ্ক ফুড খেলে কিংবা অসুস্থতার কারণে এই সিস্টেম শ্লথ হয়ে পড়ে এবং মুখ, পা বা পেট ফুলে জল জমতে শুরু করে।

এই সমস্যার আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক সমাধান হলো ‘লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজ ম্যাসাজ’ (LDM)। ১৯৩০ সালে ড. এমিল ভোডার আবিষ্কৃত এই থেরাপি কোনও সাধারণ ম্যাসাজ নয়, এতে জোরে চাপ দেওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ। ত্বকের ঠিক ১-২ মিলিমিটার গভীরে থাকা লসিকা নালী সচল করতে থেরাপিস্টরা পালকের মতো হালকা হাতে নির্দিষ্ট দিকে ত্বক ‘স্ট্রেচ’ করেন। প্রথমে ঘাড়ের লিম্ফ নোড খুলে, তারপর মুখ, বগল, পেট ও পায়ের জমা ফ্লুইড টেনে মূল নোডের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়, যা পরে কিডনির মাধ্যমে প্রস্রাব হয়ে শরীর থেকে বের হয়ে যায়।

চিকিৎসকদের মতে, এই ম্যাসাজের ৭টি প্রমাণিত উপকারিতা রয়েছে। এটি শরীরের ফোলাভাব ও ওয়াটার রিটেনশন প্রায় ৭০ শতাংশ কমিয়ে দেয়। কোরিয়ানরা একে ‘গ্লাস স্কিন ম্যাসাজ’ বলেন, কারণ এটি টক্সিন বের করে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায় এবং ব্রণ কমায়। এছাড়া এটি উরু ও পেটের সেলুলাইট হালকা করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। বিশেষ করে লাইপোসাকশন, টামি টাক বা ক্যানসার সার্জারির পর ফোলা ও ব্যথা কমাতে ডাক্তাররা এই মেডিক্যাল এলডিএম-এর পরামর্শ দেন। পাশাপাশি এটি স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে মানসিক চাপ কমায়। তবে হার্ট বা কিডনি ফেইলিওর, অ্যাক্টিভ ক্যানসার, ডিভিটি (রক্তে জমাট বাঁধা) এবং তীব্র জ্বর থাকলে এই ম্যাসাজ করা মারাত্মক বিপজ্জনক হতে পারে।

ঘরে বসেই প্রতিদিন মাত্র ৩ মিনিটে ফেস লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজ ম্যাসাজ করা সম্ভব। প্রথমে কানের নিচে এবং কলার বোনের ওপরের গর্তে ১০ বার হালকা বৃত্তাকারে আঙুল ঘুরিয়ে নোড খুলতে হবে। এরপর কপালের মাঝখান থেকে কানের দিকে, গাল থেকে কানের দিকে এবং থুতনি থেকে কানের নিচে আঙুল দিয়ে পালকের মতো হালকাভাবে টানতে হবে, যাতে ত্বক লাল না হয়। শেষে কলার বোনে আবার হালকা পাম্প করতে হবে। খালি পেটে সামান্য নারকেল তেল দিয়ে এটি করার পর অবশ্যই দুই গ্লাস জল খাওয়া উচিত। তবে মনে রাখা জরুরি, লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজ ম্যাসাজ শরীরের ‘ফ্যাট’ কমায় না, বরং ‘ফ্লুইড’ বা জমা জল কমায়। এর ফলে সাময়িকভাবে ওজন ২-৩ কেজি কমলেও আসল মেদ ঝরাতে ডায়েট ও ব্যায়ামের বিকল্প নেই। সাধারণ পার্লারে এর এক একটি সেশনের খরচ ২০০০ থেকে ৫০০০ টাকা হলেও, চিকিৎসার প্রয়োজনে অভিজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্টের সাহায্য নেওয়াই শ্রেয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy