শত্রু ট্যাঙ্কের কালান্তক ‘ধ্রুবস্ত্র’! ভারতীয় সেনার হাতে এল এমন এক মিসাইল, যা মুহূর্তেই ছাই করবে শত শত ট্যাঙ্ক

সীমান্তে নিরাপত্তা আরও নিছিদ্র করতে এবং শত্রুপক্ষের যেকোনো ট্যাঙ্ক বাহিনীকে গুঁড়িয়ে দিতে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যুক্ত হচ্ছে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ঘাতক ক্ষেপণাস্ত্র ‘ধ্রুবস্ত্র’ (Dhruvastra)। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সাফল্যের পর ভারতীয় সেনা এখন আরও বেশি আক্রমণাত্মক মেজাজে। আর এই রণকৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই শক্তিশালী অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল (ATGM)।

কেন ধ্রুবস্ত্র এত ভয়ংকর? প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO) দ্বারা তৈরি এই মিসাইলটি মূলত আকাশ থেকে জমিতে আঘাত হানতে সক্ষম। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

  • ট্যাঙ্ক ধ্বংসের নিখুঁত ক্ষমতা: ধ্রুবস্ত্র হলো মূলত ‘নাগ’ মিসাইলের হেলিপ্টার ভার্সন (Helina)। এটি বিশ্বের অন্যতম সেরা ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী অস্ত্র, যা অত্যাধুনিক বর্ম ভেদ করে শত্রুর ট্যাঙ্ককে লোহার স্তূপে পরিণত করতে পারে।

  • ফায়ার অ্যান্ড ফরগেট (Fire and Forget): এই মিসাইলটি একবার লক্ষ্যবস্তু স্থির করে ছুড়ে দিলে তা নিজে থেকেই টার্গেট খুঁজে ধ্বংস করে। অর্থাৎ, ছোড়ার পর পাইলটকে আর মিসাইলটি গাইড করতে হয় না।

  • যেকোনো আবহাওয়ায় সক্ষম: দিন হোক বা রাত, কিংবা কুয়াশাচ্ছন্ন পাহাড়—ধ্রুবস্ত্র সব পরিস্থিতিতেই সমানভাবে কার্যকরী।

  • ধ্রুব ও রুদ্র হেলিপ্টার থেকে নিক্ষেপ: এটি ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ধ্রুব এবং রুদ্র অ্যাটাক হেলিকপ্টার থেকে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা যায়।

রণকৌশলে এর প্রভাব: প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, লাদাখ বা মরুভূমি অঞ্চলে যেখানে শত্রুপক্ষ বড় ট্যাঙ্ক বাহিনী নিয়ে হামলার ছক কষতে পারে, সেখানে ‘ধ্রুবস্ত্র’ গেম-চেঞ্জার হিসেবে প্রমাণিত হবে। মুহূর্তের মধ্যে আকাশপথে এসে এটি শত শত শত্রু ট্যাঙ্ক ধ্বংস করে ভারতীয় স্থলবাহিনীর পথ পরিষ্কার করে দেবে।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর এই নতুন শক্তিবৃদ্ধি কেবল আত্মরক্ষা নয়, বরং ‘আক্রমণাত্মক প্রতিরক্ষা’র বার্তাও দিচ্ছে। ‘ধ্রুবস্ত্র’-এর অন্তর্ভুক্তিতে আকাশপথে ভারতের ক্ষমতা এখন বহুগুণ বেড়ে গেল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy