শওকতের সাম্রাজ্যে ভাঙন! ১৯ জুন পর্যন্ত এনআইএ হেফাজতে তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক

দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ (NIA)-র হাতে গ্রেফতার হলেন ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা। শুক্রবার রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কামালগাজি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার বিধাননগর আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে ১৯ জুন পর্যন্ত ১৪ দিনের এনআইএ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালতে বিক্ষোভ ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি: শনিবার সকালে মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য শওকত মোল্লাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় আদালত চত্বরে তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। তাঁকে দেখে উত্তেজিত জনতা ‘চোর’ স্লোগান দিতে থাকে এবং তাঁর দিকে ডিম ছোঁড়া হয়। ক্যানিং থেকে ভাঙড়—একসময়ের শওকতের এই ‘সাম্রাজ্য’ জুড়ে এখন এনআইএ-র কড়া নজর।

কী বলছে এনআইএ? আদালতে এনআইএ-র আইনজীবী শ্যামল ঘোষ জানান, “স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে আমরা তদন্ত করছি। এই মামলায় ধৃত অন্যদের বয়ান এবং জখম ব্যক্তির জবানবন্দি অনুযায়ী, শওকত মোল্লাই এই বিস্ফোরণ কাণ্ডের মূল ষড়যন্ত্রকারী বা মাস্টারমাইন্ড।” তদন্তকারীদের দাবি, শওকতের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনটি ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে। ধৃত ওহিদুল মোল্লার সঙ্গে শওকতের ফোনের যোগাযোগ এবং টাওয়ার লোকেশন ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে ঘটনার দিন তাঁদের গতিবিধি যাচাই করা হচ্ছে।

শওকতের আইনজীবীর যুক্তি: অন্যদিকে, শওকত মোল্লার আইনজীবী জামিনের আবেদন জানিয়ে বলেন, “ঘটনার সময় শওকত মোল্লা ঘটনাস্থল থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে নিজ বাড়িতে ছিলেন। তাছাড়া ঘটনার সময় তিনি জেড প্লাস (Z+) নিরাপত্তা পেতেন, তাই তাঁর পক্ষে সরাসরি এমন অপরাধ করা অসম্ভব।”

তদন্তে মোড়: ভাঙড়ের দক্ষিণ বামুনিয়া এলাকায় ভোট-পূর্ববর্তী বিস্ফোরণ কাণ্ডে এনআইএ তদন্ত শুরু হওয়ার পর থেকেই শওকতের নাম বারবার উঠে আসছিল। ভোটারদের ভয় দেখানো, বুথ দখল এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে অভিযুক্ত এই নেতার গ্রেফতারি রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করা হচ্ছে। এনআইএ এখন শওকতসহ মোট চারজনের ফোন কলের তথ্য বিশ্লেষণ করে ষড়যন্ত্রের পূর্ণাঙ্গ জাল উন্মোচনের চেষ্টা করছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy