ডিজিটাল মিডিয়া টেকনোলজির মতো আধুনিক বিষয়ে গোল্ড মেডেলিস্ট। পকেটে সেরার শিরোপা, চোখে আকাশছোঁয়া স্বপ্ন। কিন্তু বাস্তবের রূঢ় মাটিতে পা রাখতেই মোহভঙ্গ হলো ২১ বছর বয়সী এক মেধাবী ছাত্রের। ৫০০-র বেশি সংস্থায় চাকরির আবেদন করেও মেলেনি একটিও নিয়োগপত্র। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এই টপারের জীবনসংগ্রাম এখন বিশ্বজুড়ে শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মের হতাশার প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
লক্ষাধিক টাকা খরচ, শূন্য প্রাপ্তি!
জানা গিয়েছে, ওই শিক্ষার্থী তাঁর পড়াশোনার জন্য প্রায় ১ লক্ষ পাউন্ড (ভারতীয় মুদ্রায় যা কোটি টাকার কাছাকাছি) ব্যয় করেছেন। স্বপ্ন ছিল পড়াশোনা শেষে সম্মানজনক একটি কাজ পাবেন। কিন্তু ৫ শতাধিক সংস্থায় আবেদন করার পর মাত্র ২০টি জায়গা থেকে ইন্টারভিউয়ের ডাক পেয়েছেন তিনি। দুর্ভাগ্যবশত, সেখান থেকেও শেষ পর্যন্ত আসেনি কোনো ‘অফার লেটার’।
ব্যর্থতার পিছনে কি ‘এআই’ ও ‘মন্দা’?
এত ভালো ফলাফল থাকা সত্ত্বেও কেন কাজ পাচ্ছেন না তরুণরা? ওই শিক্ষার্থী তিনটি প্রধান কারণকে দায়ী করেছেন:
মহামারী পরবর্তী ধাক্কা: করোনা পরবর্তী সময়ে বিশ্বজুড়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া অনেকটা মন্থর হয়ে পড়েছে।
এআই (AI)-এর দাপট: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের ফলে অনেক ক্ষেত্রেই মানুষের প্রয়োজন কমছে, বিশেষ করে ডিজিটাল টেকনোলজির মতো ক্ষেত্রগুলোতে।
ব্যয় সংকোচন: সংস্থাগুলো এখন নতুন কর্মী নিয়োগের বদলে খরচ কমাতে বেশি আগ্রহী।
সোশ্যাল মিডিয়ায় শোরগোল
ওই ছাত্রের এই সংগ্রামের কাহিনী সামনে আসতেই নেটপাড়ায় বিতর্কের ঝড় উঠেছে। অনেকেই বলছেন, এখন কেবল ‘ডিগ্রি’ আর ‘রেজাল্ট’ দিয়ে কাজ পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকের মতে, এই ঘটনাটি আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা এবং বর্তমান জব মার্কেটের মধ্যেকার বিশাল ফারাককে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে।
শিক্ষা শেষে যেখানে সাফল্যের হাসি হাসার কথা ছিল, সেখানে আজ একরাশ অনিশ্চয়তা নিয়ে দিন কাটছে এই মেধাবীর। এই পরিস্থিতি কি তবে বিশ্বজুড়ে কর্মসংস্থানের এক বড় সঙ্কটের ইঙ্গিত? প্রশ্নটা এখন লক্ষ লক্ষ বেকার যুবক-যুবতীর।





