দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার থেকে উঠে এল এক চাঞ্চল্যকর খবর। কপাটহাটের একটি সরকারি লাইব্রেরি থেকে উদ্ধার হল পেটি পেটি মদের বোতল। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এই লাইব্রেরিটি তৃণমূল কংগ্রেসের দখলের অধীনে ছিল। লাইব্রেরির মতো একটি শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চার স্থানকে বেআইনি কার্যকলাপের আখড়ায় পরিণত করার প্রতিবাদে গতকাল বিজেপির পক্ষ থেকে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। ঘটনার খবর পেয়ে তড়িঘড়ি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং বন্ধ লাইব্রেরির দরজা খুলে তল্লাশি চালাতেই বেরিয়ে আসে মদের বিপুল সম্ভার। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনাচারের এই ঘটনা নতুন নয়। সম্প্রতি কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ঘটনা রাজ্যবাসীকে স্তম্ভিত করেছিল। সেখানে কলেজের ইউনিয়নের ঘর থেকে পচে যাওয়া বিপুল পরিমাণ টাকা, অত্যাধুনিক স্নানঘর, এসি বেডরুম এমনকি আগ্নেয়াস্ত্র পর্যন্ত উদ্ধার হয়। কলেজের ভেতর তৃণমূল নেতা দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দলবলের এই ধরনের কর্মকাণ্ডে প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে। সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ঘটনায় প্রাক্তন গভর্নিং বডির সদস্য দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ভেন্ডর পরিতোষ দত্তর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন ও বিএনএস (BNS)-এর একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। শিয়ালদার সূর্যসেন স্ট্রিটের বাসিন্দা আইনজীবী দেবাশিস ও তাঁর ছেলে শিবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়। কলেজের ভর্তি ও চাকরির বিনিময়ে বেআইনি লেনদেনের অভিযোগও সামনে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বহু মানুষ দেবাশিসের মাধ্যমে কলেজে অবৈধভাবে চাকরি ও ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।
সুরেন্দ্রনাথ কলেজের পর ডায়মন্ড হারবারের এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন পুরোপুরি ব্যর্থ। শাসকদলের আশ্রয়ে শিক্ষা কেন্দ্রগুলো যেভাবে ব্যক্তিগত মৌরসিপাট্টায় পরিণত হয়েছে, তা নিয়ে জনমনে প্রবল ক্ষোভ দানা বাঁধছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করলেও, অভিযুক্তদের রাজনৈতিক পরিচয় বারবার এই ধরণের অসামাজিক কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দিচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।





