সরকারি গ্রন্থাগার থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বইগুলি সরিয়ে ফেলার ইঙ্গিত দিলেন রাজ্যের নতুন গ্রন্থাগারমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, সরকারি গ্রন্থাগারে মমতার লেখা বইগুলির কোনো বিশেষ প্রয়োজন নেই। বরং ‘এপাং ওপাং ঝপাং’-এর মতো বইয়ের জায়গায় মনীষীদের রচনার ওপর জোর দেওয়া এখন সময়ের দাবি।
মন্ত্রীর বিস্ফোরক মন্তব্য: গ্রন্থাগার মন্ত্রী এদিন জানান, “সরকারি টাকায় কেনা গ্রন্থাগারগুলিতে যে ধরণের বই থাকা উচিত, তাতে গুণগত মান বজায় রাখা প্রয়োজন। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বইয়ের কোনো যৌক্তিকতা নেই। আমরা চাই গ্রন্থাগারগুলি যেন প্রকৃত শিক্ষার কেন্দ্র হয়ে ওঠে। তাই মনীষী ও জ্ঞানচর্চার বইয়ের ওপর আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি।”
বিতর্কের সূত্রপাত: গত কয়েক বছর ধরে রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি গ্রন্থাগারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বইগুলি বাধ্যতামূলকভাবে রাখা হয়েছিল। বিরোধী দলের নেতারা বরাবরই একে ‘রাজনৈতিক প্রচার’ বলে সমালোচনা করে এসেছেন। নতুন মন্ত্রীর এই মন্তব্যের ফলে সেই বিতর্কই নতুন করে মাথাচারা দিল। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সরকার বদলের আঁচ এবার গ্রন্থাগারের অন্দরেও পড়ছে।
প্রতিক্রিয়া:
সমর্থকদের মত: বিরোধীরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলছেন, গ্রন্থাগার কোনো রাজনৈতিক দলের প্রচারের জায়গা নয়। তাই মনীষীদের বইকেই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া: শাসকদলের নেতাদের মতে, এই মন্তব্য দুর্ভাগ্যজনক। কোনো লেখকের বইকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলে দেগে দেওয়াটা সংকীর্ণ মানসিকতার পরিচয়।
এই সিদ্ধান্তের জেরে গ্রন্থাগারগুলিতে বইয়ের তালিকা নিয়ে বড় ধরণের রদবদল হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা জারি করা হয় কি না, নাকি এটি মন্ত্রীর ব্যক্তিগত মত হিসেবেই রয়ে যায়।





