লগ্নিকারীদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল! যুদ্ধ ও তেলের জোড়া ফলায় বিদ্ধ শেয়ার বাজার, আপনার পোর্টফোলিও কি নিরাপদ?

সপ্তাহের শেষ দিনে ভারতীয় শেয়ার বাজারে কার্যত বিপর্যয় নেমে এল। শুক্রবার লেনদেনের শুরু থেকেই বিক্রির প্রবল চাপে ধস নামে সূচকে। দিনের শেষে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের (BSE) সেনসেক্স ১,০৯৭ পয়েন্ট বা ১.৪০ শতাংশ কমে থিতু হয়েছে ৭৮,৯১৮.৯০-এ। অন্যদিকে, ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের (NSE) নিফটি ৩১৫ পয়েন্ট বা ১.২৭ শতাংশ পড়ে ২৪,৪৫০.৪৫-এ শেষ হয়েছে। মাত্র এক দিনের এই ধসে বিনিয়োগকারীদের প্রায় ১০ লক্ষ কোটি টাকার সম্পদ এক লহমায় ধুলোয় মিশে গিয়েছে।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রক্তক্ষয়ী পতনের নেপথ্যে রয়েছে পাঁচটি প্রধান কারণ। প্রথমত, আমেরিকা-ইজরায়েল-ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আঁচ ক্রমশ বাড়ায় বিশ্বজুড়ে লগ্নিকারীরা আতঙ্কিত। দ্বিতীয়ত, অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) আকাশছোঁয়া দাম। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৮৫ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশের ওপর মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়বে। তৃতীয়ত, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের (FII) লাগাতার শেয়ার বিক্রি। চতুর্থত, ব্যাঙ্কিং সেক্টরের দুর্বলতা, বিশেষ করে এইচডিএফসি (HDFC) এবং আইসিআইসিআই (ICICI) ব্যাঙ্কের মতো বড় শেয়ারগুলির পতন সূচককে টেনে নামিয়েছে। পঞ্চমত, টাকার মূল্যের রেকর্ড পতন, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাজার থেকে টাকা তুলে নিতে বাধ্য করছে।

এই পতনের ফলে বিএসই-তে নথিভুক্ত সংস্থাগুলির মোট বাজারমূল্য ৪৪৭ লক্ষ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। বিশেষ করে ব্যাঙ্কিং, ফাইন্যান্স এবং রিয়েল এস্টেট সেক্টর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত শেয়ার বাজারের এই অস্থিরতা কাটবে না। এই অবস্থায় ক্ষুদ্র লগ্নিকারীদের আতঙ্কিত হয়ে লোকসানে শেয়ার বিক্রি না করার এবং বাজারের গতিবিধির দিকে নজর রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy