২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, বাংলার রাজনৈতিক পারদ ততই চড়ছে। আর এই আবহে ফের চর্চায় উঠে এসেছে রাজ্য সরকারের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’। রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন, ভোটের ঠিক আগেই কি ফের একবার এই প্রকল্পের অনুদানের পরিমাণ বাড়াতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? যদি তাই হয়, তবে একে বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল নেত্রীর সবচেয়ে বড় ‘মাস্টারস্ট্রোক’ হিসেবে দেখা হবে।
বর্তমানে সাধারণ শ্রেণির মহিলারা মাসে ১০০০ টাকা এবং তফশিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলারা ১২০০ টাকা করে পান। গত বাজেটে এই টাকার পরিমাণ একলাফে অনেকটা বাড়ানো হয়েছিল, যার সুফল লোকসভা নির্বাচনে হাতেনাতে পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এবার ২০২৬-এর লক্ষ্য সামনে রেখে নবান্ন সূত্রে খবর মিলছে যে, নারীভোট ব্যাঙ্ক অটুট রাখতে অনুদান আরও বৃদ্ধির প্রস্তাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও সরকারিভাবে এখনও কোনো ঘোষণা হয়নি, তবে প্রশাসনিক স্তরে এই নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
বিরোধীদের মতে, রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি যখন টালমাটাল, তখন এই ধরনের খয়রাতি আসলে ভোট কেনার কৌশল। তবে আমজনতার কাছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার কেবল একটি প্রকল্প নয়, এটি গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। লোকসভা ভোটে বিজেপি যেভাবে ধাক্কা খেয়েছে, তারপর ২০২৬-এ ক্ষমতায় টিকে থাকতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে পুনরায় এই জনপ্রিয় অস্ত্রটিই ব্যবহার করবেন, তা বলাই বাহুল্য। এখন প্রশ্ন হলো, নতুন ঘোষণা কি কেবল টাকার অঙ্কেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি উপভোক্তার তালিকায় আরও নতুন কিছু সংযোজন হবে? বাংলার কোটি কোটি মহিলার নজর এখন নবান্নের দিকে।