২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের দামামা কার্যত বেজে গেল বাংলার মাটিতে। তৃণমূলের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-কে চ্যালেঞ্জ ছুড়তে এবার নতুন রণকৌশল নিয়ে ময়দানে নামল ভারতীয় জনতা পার্টি। বুধবার পূর্ব বর্ধমানের কালনায় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের উপস্থিতিতে মহাসমারোহে শুরু হলো ‘মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড’ বিলি। বঙ্গ রাজনীতির কারবারিদের মতে, মহিলা ভোটব্যাঙ্ক নিজেদের দিকে টানতেই এই মেগা প্ল্যান গেরুয়া শিবিরের।
১. কী এই ‘মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড’?
বিজেপির নির্বাচনী ইশতেহার বা ‘সংকল্প পত্রে’ আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল যে, ক্ষমতায় এলে বাংলার মহিলাদের আর্থিক স্বাধীনতার জন্য মাসে ৩,০০০ টাকা করে দেওয়া হবে। এই প্রকল্পেরই প্রতীকী রূপ হলো ‘মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড’। এদিন কালনার জনসভা থেকে মহিলাদের হাতে এই কার্ড তুলে দিয়ে নির্মলা সীতারমণ বুঝিয়ে দিলেন, দিল্লি এবার বাংলার ক্ষমতা দখলে কতটা মরিয়া।
২. লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বনাম মাতৃশক্তি
তৃণমূল সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প বর্তমানে বাংলার মহিলাদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয়। রাজ্য সরকার যেখানে মাসে ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকা দেয়, সেখানে বিজেপি দ্বিগুণ অর্থাৎ ৩,০০০ টাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরাসরি সেই ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাতে চাইছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি কেবল একটি কার্ড নয়, বরং ২০২৬-এর নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার বড় হাতিয়ার।
৩. কালনায় নির্মলার বার্তা
এদিন কালনার সভা থেকে রাজ্য সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলোর নাম বদলে নিজেদের নামে চালাচ্ছে রাজ্য। পাশাপাশি তিনি আশ্বাস দেন, “বিজেপি ক্ষমতায় এলে মহিলারা কেবল আর্থিক সাহায্যই পাবেন না, তাঁদের সুরক্ষাও হবে সুনিশ্চিত।”
৪. কেন মহিলা ভোট এত গুরুত্বপূর্ণ?
বিগত নির্বাচনগুলোর পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে, বাংলার নারী শক্তির একটি বড় অংশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থেকেছে। এবার সেই দুর্গে ফাটল ধরাতেই ‘মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড’-এর মাধ্যমে সরাসরি জনসম্পর্ক বাড়াতে চাইছে বিজেপি। কালনার এই কর্মসূচি তারই প্রথম ধাপ বলে মনে করা হচ্ছে।





