দিল্লির মহিলাদের জন্য সুখবর! অবশেষে বাস্তবায়িত হতে চলেছে বিজেপির অন্যতম বড় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। ২০২৫ সালের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার সরকার রাজধানীর মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতা দিতে ‘মুখ্যমন্ত্রী মহিলা সমৃদ্ধি যোজনা’ বা ‘দিল্লি লক্ষ্মী যোজনা’ চালুর চূড়ান্ত প্রস্তুতি সেরে ফেলেছে। সরকারি সূত্রে খবর, আগামী ১ জুন থেকেই এই প্রকল্পের জন্য বিশেষ পোর্টাল চালু হতে পারে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে যোগ্য মহিলারা প্রতি মাসে সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ২,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন।
বদলে যাচ্ছে প্রকল্পের নাম?
আগে এই প্রকল্পটি ‘মুখ্যমন্ত্রী মহিলা সম্মান যোজনা’ নামে পরিচিত ছিল। তবে পোর্টাল উদ্বোধনের আগে সরকার এর নাম পরিবর্তন করে ‘দিল্লি লক্ষ্মী যোজনা’ রাখার চিন্তাভাবনা করছে। গত বছর ক্ষমতায় আসার পর নিজের প্রথম বাজেটে মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা এই প্রকল্পের জন্য ৫,১০০ কোটি টাকার বিশাল অংকের তহবিল বরাদ্দ করেছিলেন। এবার সেই প্রকল্পকেই মাঠপর্যায়ে নিয়ে আসার তোড়জোড় শুরু হয়েছে।
কারা পাবেন এই সুবিধা? (যোগ্যতার শর্তাবলী):
দিল্লির এই প্রস্তাবিত কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা পেতে আবেদনকারীদের বেশ কিছু কঠিন শর্ত পূরণ করতে হবে। প্রশাসনের লক্ষ্য হলো, প্রকৃত অভাবী মহিলাদের কাছেই যেন এই অর্থ পৌঁছায়।
আবেদনকারী মহিলার বয়স অবশ্যই ১৮ বছরের বেশি হতে হবে।
পরিবারের বার্ষিক আয় ২.৫ লক্ষ টাকার কম হতে হবে।
আবেদনকারীর নিজস্ব কোনো চার চাকার বা বাণিজ্যিক যানবাহন থাকা চলবে না।
আবেদনকারী কোনো সরকারি চাকরিতে কর্মরত হতে পারবেন না।
তিনি অন্য কোনো সরকারি পেনশন প্রকল্পের সুবিধাভোগী হলে এই টাকা পাবেন না।
সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো—প্রতিটি পরিবার থেকে শুধুমাত্র একজন মহিলাই এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
আবেদন প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় নথি:
আগ্রহী মহিলাদের অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন ও ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। আবেদনের সময় আধার কার্ড এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথির পাশাপাশি একটি বৈধ ইনকাম সার্টিফিকেট (আয় সংক্রান্ত শংসাপত্র) জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। এ ছাড়াও, একটি লিখিত অঙ্গীকারনামা বা ডিক্লারেশন দিতে হবে যেখানে উল্লেখ থাকবে যে আবেদনকারী সরকারের দেওয়া সমস্ত শর্ত পূরণ করছেন।
সুবিধাভোগীর সংখ্যা ও সরকারি অবস্থান:
দিল্লিতে বর্তমানে প্রায় ১৭ লক্ষ ৭৮ হাজার রেশন কার্ডধারী রয়েছেন। সরকারি কর্তাদের ধারণা, যাচাই-বাছাইয়ের পর দিল্লি লক্ষ্মী যোজনার সুবিধাভোগীর সংখ্যাও প্রায় একই সীমানায় থাকবে। যদিও প্রকল্পটি চালু হতে কিছুটা দেরি হয়েছে, তবে মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা জানিয়েছিলেন যে, কোনো ত্রুটি ছাড়াই যেন প্রতিটি যোগ্য মহিলা এই প্রকল্পের আওতায় আসেন, তার জন্যই পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। মে মাসেই এই প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি হয়ে যাবে এবং জুন থেকে শুরু হবে নতুন ভোরের সূচনা।





