রেশন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং উপভোক্তাদের তালিকা দুর্নীতিমুক্ত করতে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্যের খাদ্য ও সরবরাহ দফতর। সম্প্রতি দফতরের পক্ষ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, যেখানে ভোটার তালিকার সঙ্গে রেশন কার্ডের সংযোগের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
নতুন নির্দেশিকায় কী রয়েছে? খাদ্য দফতরের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের রেশন কার্ডের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সরকারি সূত্রের খবর, ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে রেশন কার্ড বাতিলের সম্ভাবনা রয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মূলত পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম (PDS) থেকে অযোগ্য ও ভুয়ো উপভোক্তাদের নাম ছেঁটে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে।
মন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়ার কড়া বার্তা: রাজ্যে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নতুন খাদ্য ও সমবায় মন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া দফতরকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত করার ডাক দিয়েছেন। তাঁর নির্দেশে, রেশন বণ্টন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বেনিয়ম ও জালিয়াতি রোধে এই কড়া অবস্থান নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা—যাঁরা আইনত নাগরিক এবং নথিপত্রে বৈধ, কেবল তাঁরাই সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকারী।
ট্রাইবুনালে প্রায় ৩০ লক্ষ আবেদন: বর্তমানে প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার প্রেক্ষিতে ট্রাইবুনালে শুনানির জন্য রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে খাদ্য দফতরের নির্দেশিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, যাঁদের নাম ট্রাইবুনালে বিচারাধীন রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে বর্তমান পরিস্থিতি এবং আইনি প্রক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কেন এই উদ্যোগ? রাজ্যের রেশন ব্যবস্থাকে সাধারণ মানুষের কাছে স্বচ্ছ ও সুনিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। এর আগে থেকেই মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ভুয়ো কার্ডধারীদের চিহ্নিত করা এবং সঠিক উপভোক্তাদের কাছে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়াই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।
এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যজুড়ে রেশন কার্ডধারীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ছে। তবে এই প্রক্রিয়াটি কীভাবে এবং কবে থেকে পুরোপুরি কার্যকর হবে, সেদিকেই এখন নজর রাখছেন সাধারণ মানুষ ও পর্যবেক্ষক মহল।





