শেষ হলো ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা। তবে পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের ভাষায় এটি ‘শেষ’ নয়, বরং আগামী বছরের ৫০তম বর্ষ বা সুবর্ণ জয়ন্তীর প্রস্তুতির ‘শুরু’। এবারের মেলা ভিড় এবং বিক্রি— উভয় বিভাগেই গত বছরের রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। গিল্ডের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এবারের মেলায় মানুষের সমাগম এবং বই বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ১৫ শতাংশ।
পরিসংখ্যানে বইমেলার সাফল্য:
-
পাঠক সংখ্যা: এ বছর মেলায় পা রেখেছেন প্রায় ৩২ লক্ষ মানুষ, যা গত বছর ছিল ২৭ লক্ষ।
-
বই বিক্রি: গত বছর ২৩ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছিল, এ বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৭ কোটি টাকায়। গিল্ডের কর্মকর্তাদের মতে, মেট্রো পরিষেবা এবং মেলার সময়সীমার মধ্যে ৬টি ছুটির দিন থাকায় এবারের সাফল্য আকাশছোঁয়া হয়েছে।
লক্ষ্য এবার ৫০তম বর্ষ: আগামী বছর কলকাতা বইমেলা ৫০তম বর্ষে পা রাখবে। এই মাইলফলককে স্মরণীয় করে রাখতে বিশেষ প্রদর্শনীর পরিকল্পনা করছে গিল্ড। সভাপতি সুধাংশু শেখর দে জানিয়েছেন, ১৯৯৭ সালের অগ্নিকাণ্ডে নষ্ট হয়ে যাওয়া পুরনো নথি সংগ্রহের কাজ শুরু হবে। সাধারণ মানুষের কাছেও আহ্বান জানানো হয়েছে যদি কারও কাছে বইমেলার পুরনো ছবি বা তথ্য থাকে, তা যেন গিল্ডকে দেওয়া হয়। সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব কুমার চট্টোপাধ্যায় মেলা প্রাঙ্গণের পরিধি বাড়ানোর জন্য বিধাননগরের মেয়রের কাছে অতিরিক্ত জায়গার আবেদন জানিয়েছেন।
আগামী বছরের দিনক্ষণ নিয়ে জল্পনা: গিল্ডের কোষাধ্যক্ষ রাজু বর্মন প্রস্তাব দিয়েছেন, আগামী বছর ২১ জানুয়ারি যেন মেলার উদ্বোধন করা হয়। এতে ২৩ জানুয়ারি এবং ২৬ জানুয়ারির ছুটিগুলোকে কাজে লাগিয়ে বইপ্রেমীরা আরও বেশি সংখ্যায় মেলায় আসতে পারবেন। আর্জেন্টিনার থিমে সেজে ওঠা এবারের মেলায় আর্জেন্টিনা ছাড়াও ব্রিটেন, রাশিয়া, চীন সহ বহু দেশ অংশ নিয়েছিল। বুধবার রাতে ঐতিহ্যবাহী হাতুড়ি পিটিয়ে ৪৯তম মেলার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।