রুশ তেল নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চে চাপানউতোর! মোদী নাকি ট্রাম্পকে ‘আশ্বাস’ দিয়েছেন? ভারতের স্পষ্ট অবস্থান কী?

আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চে রুশ তেল (Russian Oil) আমদানি নিয়ে ভারতের ভূমিকা ফের একবার উত্তাপ ছড়ালো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) দাবি করেছেন যে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁকে নাকি আশ্বাস দিয়েছেন যে ভারত শীঘ্রই রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে। তবে নয়াদিল্লি দৃঢ়ভাবে এই দাবি খারিজ করে দিয়েছে।

হোয়াইট হাউসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ বৈঠকের সময় ট্রাম্প বলেন, “ভারত আর রাশিয়া থেকে তেল কিনবে না। তারা ইতিমধ্যেই সেই প্রক্রিয়া থামিয়েছে। প্রায় ৩৮ শতাংশ তেল তারা কিনত, এখন তারা পিছিয়ে আসছে।”

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের স্পষ্ট জবাব:

ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক (Ministry of External Affairs) স্পষ্ট জানায়, এই দাবির কোনো ভিত্তি নেই। পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, ভারতের শক্তি নীতি সবসময়ই নির্ভর করেছে উপভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখার ওপর। তিনি বলেন, “অস্থির জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীল দাম ও নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।” তিনি আরও জানান, আমেরিকা ও ভারতের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা জোরদার করার আলোচনা চলছে।

তথ্য বলছে, আমদানি বেড়েছে:

ট্রাম্প যখন ভারত রুশ তেল কেনা ‘বন্ধ করেছে’ বলে দাবি করছেন, তখন তথ্য সংস্থা কেপলারের (Kepler) সাম্প্রতিক রিপোর্ট অন্য কথা বলছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, অক্টোবরের প্রথমার্ধে ভারতের রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি উল্টে বেড়েছে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা তিন মাস আমদানিতে যে পতন দেখা গিয়েছিল, তা অক্টোবরেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

কেপলারের প্রধান গবেষণা বিশ্লেষক সুমিত রিতোলিয়া মনে করেন, ট্রাম্পের বক্তব্য আসলে কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করার একটি কৌশল। তিনি বলেন, “ভারতের জ্বালানি ব্যবস্থায় রুশ তেল এখন অর্থনৈতিক, চুক্তিগত ও কৌশলগত কারণে গভীরভাবে প্রোথিত।”

জাতীয় স্বার্থই প্রধান লক্ষ্য:

ওয়াশিংটনের জন্য ভারতের রুশ তেল আমদানি দীর্ঘদিন ধরেই অস্বস্তির কারণ। আমেরিকা ও ইউরোপ মনে করে, এই বাণিজ্য রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে। কিন্তু নয়াদিল্লির যুক্তি স্পষ্ট— ভারত জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো বিদেশি চাপ মেনে নেবে না। আন্তর্জাতিক শক্তি রাজনীতির এই দ্বন্দ্ব এখন বিশ্ব বাজারে নতুন অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy