রিল বানাতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি! ট্রেনের দরজায় ভয়ঙ্কর স্ট্যান্ট ভিডিও দেখে ক্ষুব্ধ নেটিজেনরা

সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগে রিলস বা ভিডিও তৈরির নেশা যেন মহামারীর আকার ধারণ করেছে। জনপ্রিয়তা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা অনেক সময়ই মানুষকে অন্ধ করে দেয়, যার ফলে তারা নিজেদের জীবনের নিরাপত্তাটুকুও তুচ্ছ করে ফেলেন। লাইক, ভিউ আর ভাইরাল হওয়ার ইঁদুর দৌড়ে শামিল হয়ে অনেকে এমন সব বিপজ্জনক স্টান্ট করেন, যা দেখে শিউরে ওঠে সাধারণ মানুষ। সম্প্রতি এমনই এক দায়িত্বজ্ঞানহীন ও প্রাণঘাতী স্টান্টের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে, যা একই সঙ্গে বিস্ময় ও তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

ভাইরাল হওয়া এই ক্লিপটিতে দেখা যাচ্ছে, চলন্ত ট্রেনের দরজায় এক মহিলা যাত্রী দাঁড়িয়ে আছেন। ভিডিওর শুরুতেই দেখা যায়, তিনি ট্রেনের গেটের দুটি হাতল শক্ত করে ধরে ট্রেনের বাইরের দিকে ঝুঁকে রয়েছেন। দৃশ্যটি দেখে মনে হচ্ছে, কোনো সিনেমার শুটিংয়ের দৃশ্য চিত্রায়ন করা হচ্ছে। ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তি মহিলাটির ঠিক সামনেই দাঁড়িয়ে আছেন। মহিলাটি তাকে ক্যামেরা চালু করার নির্দেশ দেন এবং রেকর্ডিং শুরু হতেই নিজের ‘অভিনয়’ শুরু করেন।

মহিলাটি ট্রেনের গেট থেকে আরও বাইরের দিকে ঝুঁকে পড়ে এমনভাবে পোজ দিতে থাকেন, যেন তিনি চলন্ত ট্রেনের বাইরে ঝুলে আছেন। ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে তাকে বলতে শোনা যায়, “আরে, আমি যদি একটা ট্রেনের ভিডিও করি, তাতে কি কেউ পাত্তা দেবে?” সামান্যতম ভারসাম্যহীনতা বা হাতের মুঠো একটু আলগা হলেই ঘটতে পারত এক ভয়াবহ বিপর্যয়। চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে যাওয়া মানেই নিশ্চিত মৃত্যু, তবুও সেই সামান্য ঝুঁকি নিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি ওই মহিলা। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের সেই ভিডিওটি শেষ হয় তার ট্রেনের ভেতর ফিরে আসার মাধ্যমে।

ভিডিওটি ইন্টারনেটে প্রকাশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। নেটিজেনরা এই কাণ্ডকে দায়িত্বজ্ঞানহীনতার চূড়ান্ত নিদর্শন হিসেবে অভিহিত করেছেন। বেশিরভাগ ব্যবহারকারীর মতে, নিছক কয়েকটি লাইক বা ফলোয়ার বাড়ানোর জন্য নিজের মূল্যবান জীবনকে বিপন্ন করার কোনো অর্থ হয় না। অনেকের মতে, এই ধরনের ভিডিও যারা তৈরি করেন এবং যারা দেখেন, তারা পরোক্ষভাবে এই প্রাণঘাতী ট্রেন্ডকে উৎসাহিত করছেন। নেটদুনিয়ায় এই ভিডিওটি দেখে অনেকেই রেল কর্তৃপক্ষের কাছে ওই মহিলার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, এক্স (টুইটার) প্ল্যাটফর্মে @ChapraZila নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি প্রথম শেয়ার করা হয়। পোস্ট হওয়ার পর থেকেই ক্লিপটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। একদিকে যেমন ভিডিওটি ব্যাপক ভিউ কুড়োচ্ছে, অন্যদিকে তেমনই হাজার হাজার মানুষ কমেন্ট বক্সে তাদের ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। দায়িত্বজ্ঞানহীনতার এই ভিডিও ফের একবার প্রশ্ন তুলে দিল—আমাদের কি জীবনের থেকে সোশ্যাল মিডিয়ার ভিউ বেশি মূল্যবান? সচেতনতাই পারে এই ধরনের মর্মান্তিক ট্রেন্ড রুখতে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy