ভারতীয় রাজনীতির ময়দানে ফের একবার চড়ল উত্তেজনার পারদ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনহিতকর ‘সাত আবেদন’ নিয়ে রাহুল গান্ধীর কড়া সমালোচনার পাল্টা দিলেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীস। সোমবার রাহুল গান্ধীকে সরাসরি আক্রমণ করে তিনি তাঁকে “ভারতীয় রাজনীতির সবচেয়ে বড় প্রত্যাখ্যাত বস্তু বা পণ্য” হিসেবে অভিহিত করেন। ফড়ণবীসের এই মন্তব্য ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত সিকন্দরাবাদে রাহুল গান্ধীর একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংকটের জেরে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীর কাছে সাতটি বিশেষ আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে ছিল ভোজ্য তেলের ব্যবহার কমানো, গণপরিবহন ব্যবহার করা, প্রাকৃতিক চাষাবাদ এবং জ্বালানি সাশ্রয়। রাহুল গান্ধী এই আবেদনগুলিকে বিদ্রুপ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় (X) দাবি করেন যে, এটি আসলে প্রধানমন্ত্রীর শাসনতান্ত্রিক ব্যর্থতা লুকানোর চেষ্টা। এমনকি তিনি মোদীকে ‘আপসকারী প্রধানমন্ত্রী’ বলে কটাক্ষ করে দাবি করেন যে, দেশের ওপর তাঁর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে।
রাহুলের এই আক্রমণের জবাব দিতে গিয়ে দেবেন্দ্র ফড়ণবীস বলেন, “রাহুল গান্ধী এমন একজন ব্যক্তিত্ব যাকে দেশের প্রায় সব রাজ্যের মানুষ বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে। গণতন্ত্রে শেষ কথা বলে জনগণ, আর সেই জনগণই রাহুলকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। তাই তিনি কী গুরুত্বহীন মন্তব্য করছেন, তা নিয়ে দেশবাসী চিন্তিত নয়।” ফড়ণবীস আরও যোগ করেন যে, দেশবাসী দৃঢ়ভাবে প্রধানমন্ত্রী মোদীর পিছনে দাঁড়িয়ে আছে এবং বারবার তাঁকে আশীর্বাদ করছে।
একদিকে যখন রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে, তখন ফড়ণবীস দিল্লির একটি বাণিজ্য সম্মেলনে মহারাষ্ট্রের অর্থনৈতিক রোডম্যাপও তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, প্রধানমন্ত্রীর ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে মহারাষ্ট্র প্রযুক্তি, পরিকাঠামো এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে। ফড়ণবীসের দাবি, বিরোধীরা যখন কেবল সমালোচনা করতে ব্যস্ত, তখন বিজেপি সরকার দেশের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার কাজে নিয়োজিত।





