জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকালপ্রয়াণ কি নিছকই দুর্ঘটনা, নাকি এর পিছনে লুকিয়ে আছে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র? এই প্রশ্নই এখন দানা বাঁধছে সাধারণ মানুষের মনে। বিশেষ করে এক প্রাক্তন পুলিশকর্তার সাম্প্রতিক মন্তব্যে এই রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। ওই তদন্তকারী আধিকারিক সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন— ওইদিন ঠিক কী ঘটেছিল রাহুলের সঙ্গে? তাঁর দাবি, রাহুলকে কি সচেতনভাবে এমন কিছু খাওয়ানো হয়েছিল যা তাঁর মৃত্যুর কারণ হতে পারে? বিষয়টিকে তিনি ‘অনিচ্ছাকৃত হত্যা’ (Culpable Homicide) হিসেবেও ব্যাখ্যা করেছেন।
তদন্তের গভীরে গেলে দেখা যাচ্ছে, রাহুলের মৃত্যুর দিন তাঁর গতিবিধি এবং কাদের সঙ্গে তিনি সময় কাটিয়েছিলেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। প্রাক্তন ওই পুলিশ আধিকারিকের মতে, শরীরে বিষক্রিয়া বা এমন কোনো ওষুধের প্রভাব থাকতে পারে যা হৃদরোগ বা অন্য কোনো শারীরিক জটিলতা তৈরি করেছে। তিনি বলেন, “যদি কেউ জেনেবুঝে এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি করে যা মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়, তবে তা আইনের চোখে অনিচ্ছাকৃত হত্যা। রাহুলের ক্ষেত্রেও কি তেমনটাই ঘটেছে?” এই প্রশ্ন এখন টলিপাড়ার অলিতে গলিতে ঘুরপাক খাচ্ছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অনেক তথ্য উঠে এলেও পরিবারের সদস্য এবং ঘনিষ্ঠ মহলে শোকের পাশাপাশি এক চাপা উত্তেজনা কাজ করছে। ওই প্রাক্তন পুলিশকর্তার যুক্তি অনুযায়ী, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ভিসেরা পরীক্ষার রিপোর্ট আসা অত্যন্ত জরুরি। যদি সেখানে কোনো বহিরাগত রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়া যায়, তবে এই মামলা এক লহমায় মোড় নেবে অন্যদিকে। এখনও পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না এলেও, ‘অনিচ্ছাকৃত হত্যা’র এই তত্ত্ব রাহুলের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে জনমনে সন্দেহের দানা আরও শক্ত করেছে।





