সাধারণ মানুষের হেঁশেলের বাজেট এমনিতেই আকাশছোঁয়া। তার ওপর রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে দানা বেঁধেছে নতুন রহস্য। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে চায়ের দোকান— সর্বত্রই এখন একটাই প্রশ্ন, সরকার কি সত্যিই গ্রাহকদের কাছ থেকে পুরনো এলপিজি (LPG) সিলিন্ডার জমা নিয়ে নেবে? সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া এই খবরের সত্যতা এবং কেন্দ্রের নতুন নির্দেশিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে এখন মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তবে এর নেপথ্যে রয়েছে বিশ্বজুড়ে চলা জ্বালানি সংকট এবং কেন্দ্রের এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা।
কেন সিলিন্ডার জমা নেওয়ার জল্পনা?
বিশেষজ্ঞদের দাবি, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের জোগানে ঘাটতির কারণে ভারত বর্তমানে আমদানির ওপর চাপ কমাতে চাইছে। ভারতের প্রয়োজনীয় এলপিজি এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের সিংহভাগই বিদেশ থেকে আসে। এই নির্ভরতা কমাতেই কেন্দ্র এখন জোর দিচ্ছে পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস বা PNG (Piped Natural Gas)-এর ওপর।
নতুন নিয়ম কী বলছে?
সরকারের প্রাথমিক পরিকল্পনা হলো, যেসব বড় শহর বা এলাকায় ইতিমধ্যেই পাইপের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে, সেখানকার গ্রাহকদের পর্যায়ক্রমে সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনা। নির্দেশিকার মূল দিকগুলো হলো:
PNG সংযোগ থাকলে সীমাবদ্ধতা: যেসব বাড়িতে পাইপলাইন গ্যাস সংযোগ রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত এলপিজি সিলিন্ডার রাখার বিষয়ে কড়াকড়ি করা হতে পারে।
আমদানি হ্রাস: দেশীয় গ্যাসের ব্যবহার বাড়িয়ে বিদেশি মুদ্রার সাশ্রয় করা কেন্দ্রের অন্যতম লক্ষ্য।
নিরাপত্তা ও সাশ্রয়: সিলিন্ডারের তুলনায় পিএনজি অনেক বেশি নিরাপদ এবং তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী বলে দাবি করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আতঙ্কিত হওয়ার কি কারণ আছে?
সরকার এখনই দেশজুড়ে সমস্ত সিলিন্ডার তুলে নিচ্ছে— এমন ভাবার কোনো কারণ নেই। দেশের বড় একটি অংশে এখনও পাইপলাইন পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ফলে সেইসব এলাকায় সিলিন্ডার পরিষেবা আগের মতোই বহাল থাকবে। তবে ভবিষ্যতে শহরাঞ্চলে পাইপলাইন সংযোগ বাধ্যতামূলক করার দিকেই হাঁটা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মত
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক টানাপড়েনের কারণে গ্যাস আমদানিতে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তাই ‘এক দেশ, এক গ্যাস গ্রিড’ প্রকল্পের মাধ্যমে ভারতের প্রতিটি ঘরে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাসের জোগান দিতেই এই আধুনিকীকরণের পথে হাঁটছে মোদী সরকার।





