মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে এবার ভারতের সাধারণ মানুষের হেঁশেলে টান পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় দেশজুড়ে এলপিজি (LPG) গ্যাস সংকটের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে।
মুম্বইয়ে শুরু হয়েছে হাহাকার সংকটের আঁচ প্রথম পাওয়া গেছে বাণিজ্যনগরী মুম্বই থেকে। জানা যাচ্ছে, বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র ঘাটতির কারণে ইতিমধ্যেই মুম্বইয়ের প্রায় ২০ শতাংশ হোটেল ও রেস্তোরাঁ তাদের ঝাঁপ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই ঘোরালো যে, এই সংকট শীঘ্রই সাধারণ গৃহস্থের হেঁশেলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কেন হঠাৎ পিএনজি (PNG)-তে গুরুত্ব? আচমকা পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস বা পিএনজি-র ওপর ভারত সরকারের বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার পেছনে কাজ করছে সুদূরপ্রসারী কৌশল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন:
-
আমদানি নির্ভরতা কমানো: এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রে ভারত অনেকাংশে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেই সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার মুখে।
-
বিকল্প জ্বালানির খোঁজ: এলপিজি-র এই তীব্র সংকট কাটাতে ভারত এখন রাশিয়া ও আমেরিকার মতো মিত্র দেশগুলোর থেকে সরাসরি গ্যাস আমদানির পথ খুঁজছে।
-
স্থায়ী সমাধান: বারবার আন্তর্জাতিক সংকটের মুখে পড়ে এলপিজি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায়, সরকার এখন বিকল্প ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী পিএনজি সংযোগ বাড়ানোর ওপর যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছে।
রাশিয়ার দিকে তাকিয়ে দিল্লি? সূত্রের খবর, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে ভারত তার পুরনো বন্ধু রাশিয়ার কাছ থেকে বিশেষ সুবিধায় প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়ার পথ প্রশস্ত করছে। পাশাপাশি আমেরিকার সাথেও আলোচনা চলছে যাতে এলপিজি-র বিকল্প জোগান নিশ্চিত করা যায়।
সম্পাদকের নোট: আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি যেভাবে পাল্টাচ্ছে, তাতে রান্নার গ্যাসের এই সংকট সামলানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ কেন্দ্রের কাছে। সাধারণ মানুষের সাশ্রয় নিশ্চিত করতে পাইপলাইন গ্যাস কি শেষ পর্যন্ত ম্যাজিক দেখাবে? উত্তর দেবে সময়।