২০২৬ সালের মার্চ মাসের মাঝামাঝিতে দাঁড়িয়ে এক নজিরবিহীন জ্বালানি সঙ্কটের মুখে রাজ্য তথা দেশ। রান্নার গ্যাসের (LPG) তীব্র আকাল দেখা দেওয়ায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বিকল্প হিসেবে মানুষ যখন ইলেকট্রিক ইন্ডাকশন স্টোভের দিকে ঝুঁকছে, তখন সেখানেও দেখা দিয়েছে চরম ঘাটতি। গত কয়েকদিন ধরে ব্লিনকিট, সুইগি ইন্সটামার্ট বা জেপটোর মতো কুইক-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোতেও ‘আউট অফ স্টক’ দেখাচ্ছে ইন্ডাকশন স্টোভ।
শহরাঞ্চলের বহু পরিবার এখন একবেলা রান্না করে দুবেলা খাওয়ার পরিকল্পনা করছে। এলপিজি সিলিন্ডারের জোগান স্বাভাবিক না হওয়ায় বুকিং করার ১০-১৫ দিন পরেও মিলছে না গ্যাস। বিপাকে পড়ে মানুষ যখন বাজার থেকে চটজলদি ইন্ডাকশন কেনার চেষ্টা করছেন, তখন সেখানেও বড়সড় ধাক্কা। অনলাইন ডেলিভারি অ্যাপগুলোতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নজর রেখেও মিলছে না কোনো স্টোভ। এমনকি পাড়ার ইলেকট্রনিক্স দোকানগুলোতেও উপচে পড়া ভিড়, কিন্তু চাহিদার তুলনায় জোগান অত্যন্ত কম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি সরবরাহের শৃঙ্খলে বড়সড় ত্রুটির কারণেই এই কৃত্রিম সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে আগামী দিনে খাওয়ার হোটেলের দামও আকাশছোঁয়া হয়ে যাবে। গৃহবধূদের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া হচ্ছে, কারণ বিদ্যুৎ থাকলেও রান্নার সরঞ্জাম না থাকলে কী হবে, সেই উত্তর কারও কাছে নেই। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরে চলে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।