বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতে আর খুব বেশি দেরি নেই। কিন্তু তার আগেই বাংলায় বিজেপি ও তৃণমূল বিরোধী ‘বিকল্প শক্তি’ গড়ে তোলার স্বপ্নে বড়সড় ধাক্কা লাগল। বৃহস্পতিবার রাতে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে বাম এবং ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (ISF)-এর মধ্যে দীর্ঘ ৩ ঘণ্টা ধরে চলা ম্যারাথন বৈঠকের পরেও আসন রফা নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো গেল না।
রাত ১০টা পর্যন্ত ম্যারাথন লড়াই: রাত ৭টা থেকে শুরু হয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে সিপিএম এবং আইএসএফ-এর দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক। সূত্রের খবর, দু’পক্ষই নিজেদের পছন্দের আসনগুলি নিয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু মুসলিম অধ্যুষিত আসন এবং উত্তর ২৪ পরগনার কয়েকটি কেন্দ্র নিয়ে দুই শিবিরের মধ্যে টানাপোড়েন চরমে পৌঁছেছে।
কোন জায়গায় আটকে জট? বৈঠক শেষে দুই শিবিরের কারোর মুখেই জয়ের হাসি দেখা যায়নি। রাজনৈতিক মহলের গুঞ্জন:
-
আইএসএফ-এর দাবি: গতবারের তুলনায় এবার নওশাদ সিদ্দিকীর দল অনেক বেশি আসন এবং নির্দিষ্ট কিছু হেভিওয়েট কেন্দ্র দাবি করছে।
-
বামপন্থীদের যুক্তি: জেতা আসন বা দ্বিতীয় স্থানে থাকা আসনগুলো কোনোভাবেই হাতছাড়া করতে চাইছে না সিপিএম।
-
ফ্যাক্টর ভাঙড়: ভাঙড় সহ সংলগ্ন কিছু এলাকার নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়েও রেষারেষি চলছে।
আগামী দিন কি আরও কঠিন? বৈঠক শেষে কোনো পক্ষই স্পষ্টভাবে কিছু না জানালেও, সূত্রের খবর— জট কাটাতে শীঘ্রই আরও এক দফা বৈঠকে বসতে পারে দুই দল। তবে সময় যত গড়াচ্ছে, ততই তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের সম্ভাবনা ফিকে হতে শুরু করেছে। এই আসন রফার জট না কাটলে আখেরে লাভ কার হবে, তা নিয়ে চিন্তিত জোটের কর্মী-সমর্থকরা।