বাংলায় দুর্নীতির কালো ছায়া যেন আরও দীর্ঘ হচ্ছে। গত কয়েক ঘণ্টায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একের পর এক তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের গ্রেফতারের ঘটনায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গেছে। বালি পাচার, তোলাবাজি, মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে সরকারি প্রকল্পের কাটমানি—অভিযোগের তালিকা যেন শেষ হওয়ার নয়। একের পর এক গ্রেফতারির ঘটনায় অস্বস্তিতে শাসকদল।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে কোচবিহারের মাথাভাঙ্গায়। আবাস যোজনার নামে সাধারণ মানুষের থেকে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা শহিদুল মিয়াঁকে ধরতে গিয়ে পুলিশকে চরম নাটকীয় পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। ক্ষিপ্ত গ্রামবাসীরা যখন তার বাড়িতে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিল, তখন পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে তাকে খাটলের নিচ থেকে টেনে বের করে গ্রেফতার করে। এই দৃশ্য এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।
অন্যদিকে, লাউদোহার গোগলা অঞ্চলের তৃণমূল সভাপতি গৌতম ঘোষকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে অবৈধ বালি পাচার এবং এলাকায় সন্ত্রাসের অভিযোগ রয়েছে। তাকে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় বিজেপি সমর্থকদের ‘চোর চোর’ স্লোগানে আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়ে ওঠে। একইসঙ্গে, সিঙ্গুরে তোলাবাজি, বিজেপি কর্মীদের মারধর ও বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য অষ্ঠু কোলের। রাণীগঞ্জের ঘটনাতেও দুই সক্রিয় তৃণমূল নেতা শুভ ভট্টাচার্য ও তিতাস বন্দ্যোপাধ্যায়কে একাধিক মামলার প্রেক্ষিতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শহর বা গ্রাম—কোনো এলাকাতেই শাসকদলের নেতাদের দুর্নীতি যেন থামছে না। বনগাঁ জেলা যুব তৃণমূলের সহ-সভাপতি তথা কাউন্সিলর পাপাই রাহা এক মাদক ব্যবসায় যুক্ত থাকার অপরাধে ফের গ্রেফতার হয়েছেন। মঙ্গলবার জামিন পেলেও রেহাই মেলেনি। পাশাপাশি গোঘাট-২ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ স্বরূপ লাহাকে তোলাবাজি ও আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে।
শাসকদলের এই একের পর এক গ্রেফতারি প্রমাণ করছে, রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক স্তরে কতটা গভীরে দুর্নীতির শিকড় গেড়েছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, এই নেতাদের দাপটে এলাকায় শান্তিতে বসবাস করা দায় হয়ে পড়েছিল। বিরোধীরা এই সুযোগকে হাতিয়ার করে রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে। সব মিলিয়ে বাংলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ‘গ্রেফতারি অভিযান’ এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত থাকায় আরও বড় কোনো রুই-কাতলা ধরা পড়ে কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





