রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে গতি আনতে মরিয়া নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একদিকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’ চালু করার তোড়জোড়, অন্যদিকে তৃণমূল সরকারের আমলে চালু হওয়া প্রকল্পগুলোর উপযোগিতা যাচাই—সব মিলিয়ে এখন নবান্নে সাজ সাজ রব।
আয়ুষ্মান ভারতের প্রস্তুতি: দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে এই কেন্দ্রীয় প্রকল্প চালু করা নিয়ে যে বিতর্ক ছিল, তা কাটিয়ে নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেই প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকে আয়ুষ্মান ভারত চালুর ঘোষণা করেছিল। সোমবার সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী ৮ জুনের মধ্যেই এই প্রকল্পের যাবতীয় চুক্তি ও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। স্বাস্থ্য দফতরকে দ্রুত ‘গাইডলাইন’ তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন তিনি, যাতে সাধারণ মানুষ দ্রুত এই সুবিধার আওতায় আসতে পারেন।
তৃণমূলের প্রকল্প নিয়ে কড়া বার্তা: শুধু নতুন প্রকল্প নয়, রাজ্যের বর্তমান আর্থিক কাঠামোর ওপর চাপ কমাতে পুরনো প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়েও বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূল জমানায় চালু হওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে কোনগুলো জনস্বার্থে কার্যকর রাখা উচিত এবং কোনগুলো অপ্রয়োজনীয়—তার একটি বিশদ রূপরেখা বা রিপোর্ট চেয়েছেন তিনি।
রিপোর্ট জমার চূড়ান্ত সময়সীমা: মুখ্যমন্ত্রী সব দপ্তরের সচিবদের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী ৭ জুনের মধ্যে এই সংক্রান্ত রিপোর্ট তাঁর দপ্তরে জমা দিতে হবে। কোন প্রকল্পের কার্যকারিতা কেমন এবং কত মানুষ উপকৃত হচ্ছেন, তার ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই রাজ্যের প্রশাসনিক মানচিত্র থেকে বেশ কিছু পুরনো প্রকল্প চিরতরে মুছে যেতে পারে অথবা সেগুলোতে আমূল পরিবর্তন আসতে পারে। নতুন মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘টাইম-বাউন্ড’ নির্দেশ প্রশাসনিক স্তরে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।





