রাজ্যে আসছে আড়াই হাজার কোম্পানি বাহিনী! ভোট লুঠ রুখতে কেন্দ্রীয় জওয়ানদের ‘একছাতার তলায়’ আনল কমিশন

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গের ভোট মানেই হিংসা আর রক্তপাত— এই দীর্ঘদিনের কলঙ্ক মুছতে এবার নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হচ্ছে গোটা রাজ্যকে। সূত্রের খবর, এবারের নির্বাচনে সব মিলিয়ে রেকর্ড আড়াই হাজার (২৫০০) কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে।

একছাতার তলায় নিরাপত্তা: এবার আর আলাদা আলাদা বিচ্ছিন্ন বাহিনী নয়, কেন্দ্রীয় জওয়ানদের কার্যকারিতা বাড়াতে তাঁদের ‘একছাতার তলায়’ বা একক কমান্ডের অধীনে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। অর্থাৎ, সিআরপিএফ (CRPF), বিএসএফ (BSF) বা সিআইএসএফ (CISF)— যে বাহিনীর জওয়ানই হোন না কেন, একটি নির্দিষ্ট সেন্ট্রাল কমান্ডিং সিস্টেমের নির্দেশেই তাঁদের চলতে হবে। এতে সমন্বয়ের অভাব দূর হবে এবং দ্রুত অ্যাকশন নেওয়া সম্ভব হবে।

কমিশনের কড়া ফতোয়া: কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান এবং অফিসারদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে বেশ কিছু কঠোর গাইডলাইন জারি করেছে কমিশন:

  • আতিথেয়তায় নিষেধাজ্ঞা: কোনো রাজনৈতিক দলের দেওয়া খাবার, পানীয় বা যানবাহন ব্যবহার করতে পারবেন না জওয়ানরা। এমনকি কোনো প্রার্থীর ব্যক্তিগত আতিথেয়তা গ্রহণ করাও দণ্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হবে।

  • সরাসরি নজরদারি: বাহিনী কোথায় থাকছে, কীভাবে টহল দিচ্ছে— তার পুঙ্খানুপুঙ্খ রিপোর্ট প্রতিদিন কমিশনকে দিতে হবে।

  • লোকাল পুলিশের ভূমিকা: বুথ এবং বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে থাকবে কেবল কেন্দ্রীয় বাহিনী। রাজ্য পুলিশকে কেবল কিউআরটি (QRT) বা আইন-শৃঙ্খলার কাজে রাখা হবে।

কেন এই অতি-সক্রিয়তা? অতীতে বহুবার অভিযোগ উঠেছে যে, বুথের বাইরে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকলেও বুথের ভেতর ছাপ্পা ভোট বা কারচুপি রোখা সম্ভব হয়নি। এবার সেই ফাঁকফোকর বন্ধ করতেই ‘আড়াই হাজার কোম্পানি’র এই বিশাল বহর আনা হচ্ছে। কমিশনের লক্ষ্য একটাই— সাধারণ ভোটাররা যেন কোনো ভয় ছাড়াই বুথে গিয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন।

২০২৬-এর এই মহাযুদ্ধে নজিরবিহীন এই নিরাপত্তার দাপট শাসক ও বিরোধী— কার জন্য উদ্বেগের কারণ হবে, এখন সেটাই দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy