পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ও কর্মসংস্থান খাতে এক নতুন যুগের সূচনার বার্তা দিলেন নবনিযুক্ত উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই তিনি একগুচ্ছ সাহসী ও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন, যা রাজ্যজুড়ে চাকরিপ্রার্থী এবং পড়ুয়াদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, এখন থেকে পশ্চিমবঙ্গে প্রতি বছর SSC, PSC, পুলিশ এবং মিউনিসিপ্যাল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিয়মিত নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু থাকবে।
জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, বিগত বছরগুলোতে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যে অস্বচ্ছতা ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল, তা দূর করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাব্যবস্থাকে তার হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার করতে হবে এবং এই লক্ষ্য অর্জনে নিয়োগ ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ করা হবে। মন্ত্রী বলেন, “আমরা এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই যেখানে মেধার ভিত্তিতে স্বচ্ছতার সঙ্গে চাকরি পাওয়া সম্ভব হবে।”
দায়িত্ব নিয়ে বিকাশ ভবনে উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন মন্ত্রী। সেখানে তিনি স্বচ্ছ কাজের সংস্কৃতির ওপর জোর দেন। মন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্যের শিক্ষানীতিকে ঢেলে সাজাতে কেন্দ্র সরকারের শিক্ষানীতির বিভিন্ন দিক হুবহু অনুসরণ করা হবে। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গের পড়ুয়ারা জাতীয় স্তরের পড়ুয়াদের সঙ্গে সমানতালে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে এবং কারিগরি ও উচ্চশিক্ষার মানে বড় পরিবর্তন আসবে।
তবে কেবল নিয়োগ নয়, দপ্তরের কাজে শৃঙ্খলা ফেরাতেও মন্ত্রী বদ্ধপরিকর। বিকাশ ভবনের কর্মীদের সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক হাজিরা চালুর ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। মন্ত্রীর কথায়, “শৃঙ্খলা শুরু হবে আমার দপ্তর থেকেই।” প্রাক্তন সাংবাদিক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের এই প্রশাসনিক পদক্ষেপে একদিকে যেমন রাজ্য সরকারি চাকরিতে নিয়োগের দীর্ঘসূত্রতা কাটার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে শিক্ষাক্ষেত্রে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের সহায়তায় বড় পরিবর্তনের আশায় বুক বাঁধছেন শিক্ষক ও পড়ুয়ারা। সব মিলিয়ে মন্ত্রীর এই ঘোষণা রাজ্যের সামগ্রিক কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় এক বড়সড় ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিতবাহী।





