বর্তমান যুগে যেখানে সরকারি পদ এবং আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার জন্য রাজনৈতিক মহলে লড়াই চলে, সেখানে সম্পূর্ণ উল্টো পথে হেঁটে নজির গড়লেন প্রবীণ বাম নেতা তথা বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। রাজ্যসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রাক্তন সাংসদ হিসেবে প্রাপ্য ‘পেনশন’ নিতে অস্বীকার করলেন তিনি।
সচিবালয়কে পাঠানো চিঠিতে কী লিখেছেন? সম্প্রতি রাজ্যসভার সচিবালয়কে একটি চিঠি লিখে বিকাশবাবু জানিয়েছেন, তিনি প্রাক্তন সাংসদ হিসেবে কোনো ধরণের পেনশন গ্রহণ করবেন না। তাঁর এই সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, একজন সাংসদ হিসেবে প্রাপ্য মাসিক ভাতার অংকটা নেহাত কম নয়, কিন্তু নৈতিক কারণে সেই আর্থিক সুবিধা হেলায় ত্যাগ করলেন তিনি।
কেন এই নড়বড়ে সিদ্ধান্ত? বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রের খবর, তিনি মনে করেন সাংসদ থাকাকালীন জনসেবার জন্য তিনি বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার পর রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা নেওয়া তাঁর আদর্শের পরিপন্থী। তিনি পেশায় একজন সফল আইনজীবী, তাই নিজের জীবনধারণের জন্য সরকারি সাহায্যের প্রয়োজন নেই বলেই মনে করেন এই বাম নেতা।
তৃণমূল-বিজেপির সাথে তুলনা: বিকাশবাবুর এই সিদ্ধান্তের পর স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেটিজেনদের একাংশ বলছেন, যেখানে বহু প্রাক্তন বিধায়ক বা সাংসদ সরকারি আবাস ও পেনশন নিয়ে কামড়াকামড়ি করেন, সেখানে এই সিদ্ধান্ত অন্যদের জন্য শিক্ষণীয়।
এপ্রিল মাসের তপ্ত দুপুরে যখন রাজ্য রাজনীতিতে নানা কাদা ছোড়াছুড়ি চলছে, তখন বিকাশরঞ্জনের এই ‘ভদ্রলোক’ রাজনীতি যেন নতুন এক উদাহরণ তৈরি করল।





