রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। সোমবার শপথ নিয়েছেন ৩৫ জন নতুন মন্ত্রী, কিন্তু কার হাতে কোন দপ্তরের দায়িত্ব থাকবে, তা নিয়ে এখনও জারি রয়েছে জল্পনা। এই উৎকণ্ঠার আবহেই আজ, মঙ্গলবার আচমকা দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর এই সফরকে ঘিরে এখন রাজ্য রাজনীতিতে নানা জল্পনা-কল্পনার ডালপালা মেলছে।
দিনের শুরুটা ছিল অত্যন্ত কর্মব্যস্ত। এদিন সকালেই সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য দপ্তরে ‘জনতার দরবার’-এ সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপরই তাঁর গন্তব্য ছিল তারকেশ্বর। তারকেশ্বর মন্দিরে পুজো দেওয়ার পাশাপাশি সেখানকার স্থানীয় প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন তিনি। তবে তাঁর আজকের এই সফরের মূল লক্ষ্য যে শুধুমাত্র তারকেশ্বর নয়, তা পরিষ্কার হয়ে গেছে তাঁর দিল্লি যাত্রার খবরে।
সূত্রের খবর, আগামী ২০ জুন ফের বাংলায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে বঙ্গ বিজেপি। শোনা যাচ্ছে, তারকেশ্বরে প্রধানমন্ত্রীর একটি মেগা জনসভা হতে পারে। সেই সভার প্রস্তুতি এবং প্রস্তাবিত সভাস্থলের ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখেই তিনি দ্রুত কলকাতা বিমানবন্দরের দিকে রওনা দেন।
দিল্লি সফর নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তুঙ্গে। মনে করা হচ্ছে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করতেই তড়িঘড়ি রাজধানী পাড়ি দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন সহ একাধিক কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতার সঙ্গে তাঁর এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফরেই নতুন মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টনের চূড়ান্ত তালিকা তৈরি হতে পারে। তবে এর বাইরেও দিল্লিতে এক ‘বিশেষ’ বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। সেই বৈঠকের আলোচ্য বিষয় নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। তবে কি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে বড় কোনো বরাদ্দের নিশ্চয়তা মিলবে, না কি রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোর কোনো বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত—তা জানতে এখন মুখিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। মুখ্যমন্ত্রীর এই দিল্লি সফর যে রাজ্যের আগামী দিনের রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা নেবে, তা বলাই বাহুল্য।





