রাজনীতি ছাড়ছেন স্নেহাশিস চক্রবর্তী! কেন ভোটের হারেই বড় সিদ্ধান্ত নিলেন প্রাক্তন পরিবহণমন্ত্রী?

দীর্ঘ চার দশকের বর্ণময় রাজনৈতিক ক্যারিয়ার। লড়াই-সংগ্রাম আর মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব সামলানো সেই পোড় খাওয়া নেতা স্নেহাশিস চক্রবর্তী এবার সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। ভোটের হারের ঠিক পরপরই তাঁর এই সিদ্ধান্ত তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বড়সড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বর্তমানের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, অশালীন ভাষার ব্যবহার এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ—এসবের সঙ্গে নিজেকে কোনোভাবেই মানিয়ে নিতে পারছেন না তিনি।

পরাজয়ের কারণ বিশ্লেষণে স্নেহাশিসবাবু সরাসরি আঙুল তুলেছেন দলের সংগঠনের ওপর। তাঁর মতে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের সাধ্যমতো চেষ্টা করলেও জেলা স্তরের নেতৃত্ব এবং সাধারণ কর্মীদের সঙ্গে নেতৃত্বের যে সংযোগ থাকা প্রয়োজন ছিল, সেখানে বড় ধরনের ঘাটতি থেকে গিয়েছে। তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, “দলের অনেক কর্মীই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে নিজেদের মনের কথা পৌঁছতে পারতেন না। সংগঠনের এই বিচ্ছিন্নতাই হারের অন্যতম কারণ।”

সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরার কোনো সম্ভাবনাই তিনি উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “দলের একজন সাধারণ সমর্থক হিসেবে হয়তো থাকা যায়, কিন্তু এখন আর মাঠে নেমে রাজনীতি করার ইচ্ছা নেই।” বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রতি চরম অনীহা প্রকাশ করে প্রাক্তন মন্ত্রী বলেন, “রাজনৈতিক বিরোধিতা এখন ব্যক্তিগত আক্রমণে নেমেছে। অশালীন ভাষায় প্রতিপক্ষকে বিঁধতে হবে—এমন রাজনীতি আমি শিখিনি আর করতেও চাই না।”

শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজ্যে আসা নতুন সরকারকেও তিনি সম্মান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, মানুষ রায় দিয়েছেন, তাই নতুন সরকারকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে, তৃণমূলের অন্দরে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। বিধায়ক-সাংসদদের স্বাধীনভাবে কথা বলার সুযোগ ছিল না বলেই আজ দলের এই অবস্থা। আই-প্যাক (I-PAC) নির্ভর রাজনীতির সমালোচনা করে তিনি জানান, দলের ভেতর আলোচনা ও মতবিনিময়ের সুযোগ কমে যাওয়াই ছিল বড় ভুল।

মন্ত্রী হিসেবে নিজের কাজের সাফল্যের খতিয়ান দিতে গিয়ে তিনি জানান, পরিবহণ দপ্তরে থাকাকালীন রাজস্ব আদায় ২ হাজার কোটি থেকে বাড়িয়ে ৪,৭০০ কোটিতে নিয়ে গিয়েছিলেন। রাজনীতির মূল লক্ষ্য যে মানুষের উন্নয়ন, তা বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে গেলেও, লেখালেখি এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে তিনি জনপরিসরে নিজের অবস্থান বজায় রাখবেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর এই প্রস্থান তৃণমূলের জন্য এক বড় ধাক্কা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy