রাজ্যের ভঙ্গুর আর্থিক পরিস্থিতি এবং ঋণের ক্রমবর্ধমান বোঝার মধ্যেই পেশ হলো চলতি অর্থবর্ষের পূর্ণাঙ্গ বাজেট। রাজ্যের রাজকোষের বেহাল দশা নিয়ে বিরোধীদের লাগাতার আক্রমণের মুখে দাঁড়িয়ে, এবারের বাজেটে অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের প্রশ্নে বিশেষ সংকেত দিলেন। নির্বাচনের মরসুমে এই বাজেট যে একাধারে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ আর অন্যধারে রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার মিশেল, তা বলাই বাহুল্য।
দেউলিয়া রাজকোষ বনাম উন্নয়নের স্বপ্ন: বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের ঋণের বোঝা ৮ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। জিএসডিপি-র তুলনায় ঋণের এই হার দেশের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। এমন পরিস্থিতিতে জনকল্যাণমূলক প্রকল্প এবং ভাতা চালুর জন্য সরকারকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিতে হচ্ছে। বাজেটের বড় অংশই চলে যাচ্ছে ঋণের সুদ মেটাতে। এই কঠিন পরিস্থিতিতেও কীভাবে উত্তরবঙ্গের মতো পিছিয়ে থাকা অঞ্চলগুলিতে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন সম্ভব—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অর্থনীতিবিদদের একাংশ।
উত্তরবঙ্গ উন্নয়নে বিশেষ ইঙ্গিত: বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী উত্তরবঙ্গের সামগ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিশেষ উদ্যোগের ইঙ্গিত দিয়েছেন। মূলত উত্তরবঙ্গকে অর্থনৈতিকভাবে চাঙ্গা করতে যে নতুন প্রকল্পের রূপরেখা তৈরি হচ্ছে, তা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল সরকারের একটি বড় হাতিয়ার বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
বাজেটের মূল লক্ষ্য:
পরিকাঠামো উন্নয়ন: উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সড়ক উন্নয়নে বিশেষ তহবিল বরাদ্দের ইঙ্গিত।
ভাতার রাজনীতি: একদিকে ঋণের বোঝা, অন্যদিকে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বা ‘যুব সাথী’র মতো জনমোহিনী প্রকল্পে বিপুল বরাদ্দ অব্যাহত।
রাজনৈতিক কৌশল: বিরোধীরা যেখানে ‘দেউলিয়া রাজকোষ’-এর অভিযোগে সরব, সেখানে সরকারি প্রকল্পগুলিকে হাতিয়ার করে উন্নয়নের পাল্টা যুক্তি দিচ্ছেন শাসক দল।
এখন দেখার বিষয়, বিপুল ঋণভার মাথায় নিয়ে সরকারি কোষাগার থেকে উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে কতটা বাস্তবসম্মত ও দ্রুতগতিতে কাজ সম্ভব হয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বাজেট কেবল হিসেব-নিকেশের খাতা নয়, এটি উত্তরবঙ্গের মন জয়ের একটি বড় রাজনৈতিক গেমপ্ল্যান।





