তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যখন বিধায়ক ভাঙন ও দলবিরোধী কার্যকলাপ নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে, ঠিক তখনই বিরোধী শক্তির মোকাবিলায় রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ে ধর্না কর্মসূচিতে বসলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার দুপুরে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের নিয়ে তিনি পৌঁছান প্রতিবাদী সমাবেশে। এদিন সংবিধান হাতে নিয়ে আম্বেদকরের মূর্তিতে মাল্যদান এবং মহাত্মা গান্ধীর মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ধর্না কর্মসূচি শুরু করেন। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ফিরহাদ হাকিম, কুণাল ঘোষ, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, অসীমা পাত্র, দোলা সেন এবং মদন মিত্রের মতো দলের প্রথম সারির নেতারা।
বস্তুত, গত দু’দিনে তৃণমূলের অন্দরে অস্থিরতা চরমে পৌঁছেছে। দলবিরোধী ও অনৈতিক কাজের অভিযোগে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা—এই দুই বিধায়ককে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল। এই প্রেক্ষিতে দল ও সমর্থকদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে তৃণমূলের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। বিবৃতিতে স্পষ্ট বলা হয়, ‘‘প্রতিবাদী সমাবেশে যাঁরা যোগ দিচ্ছেন, তাঁদের যদি পুলিশ বা প্রশাসন কোনও বাধা দেয়, তবে বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে ধর্মতলার ‘ওয়াই চ্যানেল’-এর পাদদেশে এসে সমবেত হতে হবে।’’
ধর্না মঞ্চ থেকে সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে এদিন ফেসবুক লাইভে তিনি বলেন, ‘‘যারা মানুষের ভোটে জয়ী হয়ে গদ্দারি করছেন, তারা ভয় পাচ্ছেন। আমি তাদের বলব, ভয় না পেলে হয়তো একমাস জেলে থাকতে হবে, কিন্তু তারপর আপনি মুক্ত হয়ে যাবেন। তাই ক্ষণিকের প্রলোভনে বা অন্যের কথায় কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নেবেন না।’’
ঋতব্রতর প্রতি তীব্র বিষোদগার করে তিনি আরও বলেন, ‘‘আগে সিপিএম করা এই নীতিহীন ব্যক্তিকে টিকিট দেওয়াটা আমাদের বড় ভুল ছিল। আজ আমি হাওড়ার মানুষের কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইছি, কারণ যে ব্যক্তিকে আমরা দু’বার জিতিয়েছিলাম, সে আপনাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।’’
দলীয় ভাঙন ও পরবর্তী রাজনৈতিক রণকৌশল নিয়ে আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী যখন তৃণমূলের অন্দরে দুর্নীতির অভিযোগে সরব এবং একের পর এক বিধায়ককে নিয়ে জল্পনা চলছে, ঠিক সেই সময়ে মমতার এই ধর্না ও পাল্টা হুঙ্কার তৃণমূলের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার এক মরিয়া প্রচেষ্টা বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।





