রক্ত ও জল একসাথে বইবে না! পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের বড় পদক্ষেপ, বন্ধ হচ্ছে সিন্ধুর দোরগোড়া

পহেলগাম সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিরীহ বেসামরিক নাগরিকের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের কূটনৈতিক ও কৌশলগত অভিযানের প্রভাব স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। কয়েক দশক ধরে যে ভারত উদারতা ও ধৈর্য প্রদর্শন করে এসেছে, তারা আজ পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে—সন্ত্রাসবাদ এবং সহযোগিতা কোনোভাবেই একসাথে চলতে পারে না। এর প্রেক্ষিতে ভারত সরকারের সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত ভারতের কৃষক, শিল্প এবং শক্তি উৎপাদনের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু জল চুক্তির শর্তানুসারে, সিন্ধু, ঝিলাম ও চেনাব নদীর বেশিরভাগ জল পাকিস্তানে প্রবাহিত হত, যেখানে ভারতের ব্যবহার ছিল অত্যন্ত সীমিত। কিন্তু পহেলগামের ঘটনার পর ভারত দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করেছে, “রক্ত ও জল একসাথে বইতে পারে না।” এই ঘোষণার সাথে সাথেই ভারত সরকার চেনাব নদী ব্যবস্থার জলসম্পদকে দেশের স্বার্থে কাজে লাগানোর জন্য যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করেছে।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, হিমাচল প্রদেশের লাহুল-স্পিতি অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত চন্দ্র নদীর জল সুড়ঙ্গের মাধ্যমে বিয়াস নদী ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত করার প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এটি সফল হলে রাজস্থানসহ ভারতের শুষ্ক অঞ্চলগুলিতে সেচ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আসবে। বিশেষজ্ঞরা একে ভারতের জল ব্যবস্থাপনা এবং কৃষি উন্নয়নের জন্য এক বড় জয় হিসেবে দেখছেন।

পাশাপাশি, জম্মু ও কাশ্মীরের সালাল এবং বাগলিহার জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জলাধারগুলি থেকে পলি অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এতদিন পাকিস্তানের আপত্তির কারণে এই জলাধারগুলির নিচের গেট খোলা সম্ভব ছিল না, যা জল ধারণ ক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু চুক্তির নতুন প্রেক্ষাপটে ভারত এখন ওই গেটগুলি খুলে ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর ফলে জলাধারগুলির জল ধারণ ক্ষমতা যেমন বাড়বে, তেমনি বিদ্যুৎ উৎপাদনও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

এই পদক্ষেপ কেবল জল ব্যবস্থাপনা নয়, বরং পাকিস্তানের প্রতি এক জোরালো কৌশলগত বার্তা। নয়াদিল্লি বুঝিয়ে দিয়েছে, কোনো প্রতিবেশী দেশ যদি সন্ত্রাসবাদকে নীতি হিসেবে গ্রহণ করে, তবে তার পরিণতি কেবল সামরিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং অর্থনৈতিক এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও তীব্র আঘাত আসবে। ভারত আবারও প্রমাণ করল যে, তারা শান্তিপ্রিয় কিন্তু জাতীয় নিরাপত্তা এবং দেশের স্বার্থের সঙ্গে কোনো আপস করতে তারা প্রস্তুত নয়। এটি কেবল জলের অধিকার আদায়ের লড়াই নয়, বরং ভারতের সংকল্প এবং আত্মনির্ভরশীলতার এক নতুন অধ্যায়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy