উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আরও এক প্রতিফলন দেখা গেল সহারানপুর জেলায়। বুধবার দুপুরে মির্জাপুর থানার শেরপুর গ্রামের কাছে এক নাটকীয় এনকাউন্টারে পুলিশের গুলিতে নিহত হলো কুখ্যাত দুষ্কৃতী শেহজাদ। তার মাথার ওপর ১ লক্ষ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল প্রশাসন। গরু পাচার থেকে শুরু করে খুনের চেষ্টা— শেহজাদের অপরাধের খতিয়ান হার মানাবে যেকোনো ক্রাইম থ্রিলারকেও।
বুধবার দুপুর ৩টে নাগাদ পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পায় যে, ফতেহপুর থানার গন্দেভড়া গ্রামের বাসিন্দা ৪০ বছর বয়সি শেহজাদ ফের বড়সড় কোনো গরু পাচারের ছক কষছে। খবর পাওয়ামাত্রই মির্জাপুর থানার বিশেষ দল এলাকা ঘিরে ফেলে। পুলিশ তাকে আত্মসমর্পণের সুযোগ দিলেও, শেহজাদ পাল্টা গুলি চালাতে শুরু করে। আত্মরক্ষায় পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এই ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ অপরাধী।
অপরাধের খতিয়ান: ৪৪টি মামলা ও ১ লক্ষি ইনাম
শেহজাদ ছিল সহারানপুর পুলিশের কাছে এক দীর্ঘদিনের মাথাব্যথা। তার বিরুদ্ধে রেকর্ড করা মামলার তালিকাটি দীর্ঘ:
মোট মামলা: সহারানপুরের বিভিন্ন থানায় মোট ৪৪টি গুরুতর মামলা ছিল তার নামে।
অপরাধের ধরন: গরু পাচার, গ্যাংস্টার অ্যাক্ট, খুনের চেষ্টা এবং লুটপাটের মতো অপরাধে সে সিদ্ধহস্ত ছিল।
পুরস্কার: দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় তাকে ধরিয়ে দিতে ১ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।
এই রুদ্ধশ্বাস সংঘর্ষে পুলিশের দুই কর্মীও আহত হয়েছেন। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বর্তমানে তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল। ডিআইজি এই অভিযানের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং জানিয়েছেন যে, অপরাধ দমনে কোনো আপস করা হবে না।
এই এনকাউন্টার নিয়ে জনমানসে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একাংশ মানুষ অপরাধী নিকেশ হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করলেও, এনকাউন্টার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। শেহজাদের পরিবার ইতিমধ্যেই ময়নাতদন্তের পর আইনি পথে হাঁটার কথা জানিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গোটা ঘটনার তদন্ত আইন মেনেই করা হচ্ছে এবং সমস্ত প্রমাণ খতিয়ে দেখা হবে।
যোগী সরকারের আমলে উত্তরপ্রদেশে গরু পাচারকারীদের বিরুদ্ধে যে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে, এই ঘটনা তারই এক বড় প্রমাণ। আপাতত শেহজাদের নেটওয়ার্কের বাকি সদস্যদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে সহারানপুর পুলিশ।