“যুদ্ধ চাই না, কিন্তু মাথা নত করব না!” ট্রাম্পের রক্তচক্ষুর সামনে তেহরানের হুঙ্কার

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে আবারও যুদ্ধের দামামা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ইরান-আমেরিকা সম্পর্ক। হোয়াইট হাউস সূত্রে খবর, ইরানকে অবিলম্বে পরমাণু কর্মসূচি ও আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে কড়া চুক্তিতে আসার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। অন্যথায়, ইরানি সামরিক পরিকাঠামোয় ফের বড় ধরনের হামলার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক মনোভাবের পর থেকেই বিশ্বজুড়ে ছড়িয়েছে আতঙ্ক।

মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তেহরান যদি ওয়াশিংটনের দেওয়া শর্তাবলী মেনে নতুন চুক্তিতে স্বাক্ষর না করে, তবে আমেরিকা কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নিতে দ্বিতীয়বার ভাববে না। এর আগে ট্রাম্পের শাসনকালেই কাসেম সোলেমানির মতো শীর্ষ ইরানি কমান্ডারকে খতম করেছিল আমেরিকা। এবারও ট্রাম্প সেই পথেই হাঁটার ইঙ্গিত দিচ্ছেন বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমেরিকা নিজের স্বার্থ রক্ষায় আপস করবে না।”

তবে ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারিতে দমে যেতে নারাজ ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, কোনো চাপের মুখে নতি স্বীকার করা হবে না। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক বিবৃতিতে বিশ্বের নজর টেনেছেন। তিনি অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ কিন্তু দৃঢ় ভাষায় বলেছেন, “আমরা যুদ্ধ চাই না। আমরা শান্তিপ্রিয় দেশ। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমরা মার্কিন অন্যায্য দাবির কাছে মাথা নত করব।” পেজেশকিয়ান আরও স্পষ্ট করে দেন যে, ইরান নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে সক্ষম এবং কোনো হুমকিতে তাদের বিদেশনীতি পরিবর্তন হবে না।

বর্তমানে ইরান ও ইজরায়েলের সংঘাত যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে ট্রাম্পের এই মন্তব্য বারুদে অগ্নিসংযোগের মতো কাজ করেছে। একদিকে হোয়াইট হাউসের ‘চুক্তি করো নয়তো মরো’ নীতি, অন্যদিকে ইরানের ‘নতি স্বীকার না করার’ জেদ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন এক চুলচেরা জায়গায় দাঁড়িয়ে। যদি কূটনৈতিক স্তরে কোনো সমাধান সূত্র না বেরোয়, তবে ২০২৬ সালেই মধ্যপ্রাচ্য আরও এক ভয়াবহ যুদ্ধের সাক্ষী হতে পারে। এখন দেখার, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারিকে ইরান কতটা গুরুত্ব দেয় নাকি পালটা কোনো সামরিক মহড়ায় নামে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy