বৈশ্বিক অস্থিরতা আর যুদ্ধের মেঘের মাঝে আরও একবার শান্তির দূত হিসেবে ধরা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দুই দিনের অস্ট্রিয়া সফরে গিয়ে ভিয়েনায় চ্যান্সেলর কার্ল নেহামারের সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ভারত যুদ্ধের বিরুদ্ধে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে বিশ্বাসী।
সামরিক সংঘাত নিয়ে মোদীর ৩টি বড় পয়েন্ট:
“এটি যুদ্ধের যুগ নয়”: প্রধানমন্ত্রী আবারও তাঁর সেই বিখ্যাত উক্তি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, বর্তমান বিশ্ব একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে। আজ সমস্যা সমাধানের পথ বন্দুকের গুলি হতে পারে না। মানবিকতার স্বার্থে যেকোনো সামরিক সংঘাত দ্রুত বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।
কূটনীতি ও সংলাপের গুরুত্ব: মোদী স্পষ্ট করেন যে, যুদ্ধক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। ভারত সবসময় ‘ডায়ালগ’ বা সংলাপ এবং ‘ডিপ্লোমেসি’ বা কূটনীতির পথে সমাধান খুঁজে পাওয়ার পক্ষে সওয়াল করে।
নিরপরাধের মৃত্যু কাম্য নয়: ইউক্রেন এবং পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে নিরপরাধ মানুষের মৃত্যু নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন মোদী। তিনি জানান, ভারত ও অস্ট্রিয়া উভয় দেশই শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে একসঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অস্ট্রিয়ার প্রশংসা ও ভারতের গুরুত্ব: অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর কার্ল নেহামার ভারতের এই অবস্থানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে ভারত রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে মধ্যস্থতা করার ক্ষমতা রাখে। অস্ট্রিয়া একটি নিরপেক্ষ দেশ হিসেবে ভারতের এই শান্তির প্রচেষ্টাকে পূর্ণ সমর্থন জানায়।
কেন এই সফর তাৎপর্যপূর্ণ? দীর্ঘ ৪১ বছর পর কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী অস্ট্রিয়া সফরে গেলেন। মোদী এমন এক সময়ে এই সফর করলেন যখন গোটা বিশ্ব রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে চর্চা করছে। অস্ট্রিয়ার পাশে দাঁড়িয়ে মোদীর এই ‘শান্তি বার্তা’ কার্যত পশ্চিমা বিশ্বকেও এক শক্তিশালী সংকেত দিল যে, ভারত কেবল নিজের স্বার্থ নয়, বিশ্ব শান্তির জন্যও সমানভাবে সোচ্চার।





