মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ যখন যুদ্ধের কালো মেঘে ঢাকা, ঠিক তখনই আন্তর্জাতিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে পাকিস্তান। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে বাড়তে থাকা চরম উত্তেজনার আবহে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে ইসলামাবাদ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতায় ভোগা একটি দেশ কীভাবে এই জটিল ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে প্রধান অনুঘটক হয়ে উঠল?
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের এই ভূমিকার পেছনে কাজ করছে দ্বিমুখী কৌশল। একদিকে ইরানের সঙ্গে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ প্রতিবেশী সম্পর্ক এবং অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সামরিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব। সূত্র জানাচ্ছে, পাকিস্তান বর্তমানে তেহরান এবং পশ্চিমী শক্তিগুলোর মধ্যে একটি ‘ব্যাক-চ্যানেল’ বা গোপন কূটনৈতিক সেতু হিসেবে কাজ করছে, যাতে সংঘাতের মাত্রা আর না বাড়ে।
চীনের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং সৌদি আরবের আস্থাভাজন দেশ হিসেবে পাকিস্তানের এই মধ্যস্থতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইসলামাবাদ চাইছে না যে এই যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে পড়ুক, কারণ তার নিজস্ব নিরাপত্তা এবং জ্বালানি রুট এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতার ওপর নির্ভরশীল। ওআইসি (OIC)-র মঞ্চেও পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে সরব হয়েছে। এই মুহূর্তে পাকিস্তানের এই ‘শান্তিদূত’ ইমেজ বিশ্বরাজনীতিতে তাদের প্রাসঙ্গিকতা যেমন বাড়িয়েছে, তেমনি মধ্যপ্রাচ্যের আগুন নেভাতে এটিই শেষ ভরসা কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।





