রান্নার গ্যাসের সংকটের পর এবার দেশের ডিজিটাল পরিকাঠামোর ওপরও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কালো ছায়া ঘনিয়ে এল। ইরান-ইজরায়েল-মার্কিন সংঘাতের ফলে জ্বালানি সরবরাহে যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে, তাতে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট পরিষেবা দীর্ঘমেয়াদে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ডিজিটাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন (DIPA)।
টেলিকম পরিষেবায় কেন ঝুঁকি?
ডিআইপিএ-এর মতে, দেশের ডিজিটাল পরিকাঠামো সচল রাখতে এলপিজি (LPG) ও এলএনজি (LNG) অপরিহার্য। কারণ:
জেনোরেটর ব্যাকআপ: অনেক টেলিকম টাওয়ার এবং ডেটা সেন্টারে জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যাকআপ হিসেবে এই জ্বালানি ব্যবহার করা হয়।
টাওয়ার নির্মাণ: টাওয়ার তৈরির সময় দস্তা গলানোর প্রক্রিয়ায় (Galvanization) ২৪ ঘণ্টা জ্বালানি প্রয়োজন হয়। বর্তমানে ঘরোয়া গ্রাহকদের অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে টাওয়ার প্ল্যান্টগুলিতে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ৫জি সম্প্রসারণ ও নতুন টাওয়ার বসানোর কাজ থমকে যেতে পারে।
কতটা ভয়াবহ হতে পারে পরিস্থিতি?
দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলে এবং ব্যাকআপ জ্বালানির অভাবে প্রত্যন্ত এলাকা থেকে মোবাইল সিগন্যাল উধাও হয়ে যেতে পারে। টেলিকম সংস্থাগুলোর দাবি, বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে গেলে পরিচালন ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যাবে, যার প্রভাব পড়তে পারে গ্রাহকদের ওপর। টেলিকম পরিষেবার এই বিপর্যয় কেবল সাধারণ মানুষের যোগাযোগ নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তা, অনলাইন লেনদেন ও টেলিমেডিসিনের মতো জরুরি পরিষেবাকেও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিতে পারে।
সরকারের কাছে আবেদন:
ডিআইপিএ কেন্দ্রীয় টেলিকম মন্ত্রকের কাছে দাবি জানিয়েছে, টেলিকম পরিকাঠামো নির্মাণকারী ইউনিটগুলিকে জ্বালানি বিধিনিষেধ থেকে ছাড় দেওয়ার জন্য এবং টাওয়ারগুলিতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে ভারতের ডিজিটাল ভবিষ্যতের ওপর বড় ধরণের ধাক্কা আসার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।