যুদ্ধবিমানে নকল যন্ত্রাংশ! ১৯৯টি ভুয়ো রিপোর্ট জমা দিয়ে ধরা পড়ল হায়দরাবাদের সংস্থা

ভারতীয় বিমান বাহিনীর ‘লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফট’ (LCA) Mk-1A যুদ্ধবিমান কর্মসূচিতে গুরুতর জালিয়াতির অভিযোগ! যুদ্ধবিমানের যন্ত্রাংশ সরবরাহের ক্ষেত্রে ১৯৯টি ভুয়ো পরীক্ষার রিপোর্ট জমা দেওয়ার অভিযোগে হায়দরাবাদ-ভিত্তিক সংস্থা ‘টেক অ্যারো ডিভাইসেস’-এর বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করল হিন্দুস্তান অ্যারোনটিকস লিমিটেড (HAL)।

জালিয়াতির সূত্রপাত ও ফাঁস: ২০২২ সালের মার্চ মাসে এইচএএল (HAL)-এর এয়ারক্রাফট ডিভিশন এলসিএ এমকে-১এ প্রকল্পের যন্ত্রাংশ সরবরাহের জন্য ‘টেক অ্যারো ডিভাইসেস’কে ১৮টি ক্রয়াদেশ দেয়। ৩৫টি ক্যাটাগরির ১৭২ ধরনের পণ্য উৎপাদনের জন্য অনুমোদন পায় সংস্থাটি। কিন্তু পণ্য সরবরাহের সময় বিপত্তি বাধে। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহের কঠোর নিয়ম অনুযায়ী, পণ্যের গুণমান নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ সব পরীক্ষার রিপোর্ট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। অভিযোগ, ওই সংস্থাটি পণ্যের মান যাচাইয়ের আড়ালে মোট ১৯৯টি জাল পরীক্ষার রিপোর্ট জমা দেয়। যার মধ্যে টেনসাইল স্ট্রেন্থ, ব্রেক লোড এবং মাইক্রোস্ট্রাকচার বিশ্লেষণের মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত ছিল।

HAL-এর কঠোর পদক্ষেপ: এই অনিয়ম ধরা পড়ার পরই HAL কর্তৃপক্ষ তড়িৎ গতিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করে:

  • আইনি ব্যবস্থা: সংশ্লিষ্ট সংস্থার বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

  • কালো তালিকাভুক্তি: ‘টেক অ্যারো ডিভাইসেস’-কে তিন বছরের জন্য অর্থাৎ ১০ মার্চ, ২০২৭ পর্যন্ত অনুমোদিত বিক্রেতাদের তালিকা থেকে বাতিল করা হয়েছে।

  • অর্থ প্রদান স্থগিত: সংস্থাটিকে কোনো অর্থ প্রদান করা হয়নি, যার ফলে সরকারি কোষাগারের অর্থের বড়সড় অপচয় রোধ করা সম্ভব হয়েছে।

সুরক্ষায় আপস নয়: যুদ্ধবিমানের যন্ত্রাংশের ক্ষেত্রে এই ধরণের জাল রিপোর্ট শুধু আইনত অপরাধই নয়, এটি বায়ুসেনার পাইলট ও বিমানের নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি আপস করার সমান। HAL-এর এই সময়োচিত পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে, প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের গুণমান ও স্বচ্ছতা রক্ষায় সংস্থাটি কতটা কঠোর। ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে, যাতে এই জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত তা দ্রুত বেরিয়ে আসে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy