যাদবপুরকে দেশবিরোধী খোঁচা প্রধানমন্ত্রীর! ছিঃ ছিঃ করে ধুয়ে দিলেন মমতা-রাজ, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

ভোটের ময়দানে এবার হাতিয়ার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়! শুক্রবার বারুইপুরের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রীর ‘দেশবিরোধী’ তকমা বনাম তৃণমূলের পালটা ‘মেধা’র লড়াই— সব মিলিয়ে কার্যত উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে দেশবিরোধী স্লোগান ঘিরে নরেন্দ্র মোদী যে আক্রমণ শানিয়েছেন, তার যোগ্য জবাব দিলেন ব্যারাকপুরের তৃণমূল প্রার্থী তথা ‘হোক কলরব’ ছবির পরিচালক রাজ চক্রবর্তী।

মোদীর তোপ: “যাদবপুর এখন হুমকির আস্তানা” বারুইপুরের মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি অভিযোগ তোলেন, একসময়ের গৌরবময় যাদবপুর এখন দেশবিরোধী শক্তির আখড়া। তিনি বলেন, “যে সরকার নিজের রাজ্যের সবথেকে বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বাঁচাতে পারে না, তারা বাংলার ভবিষ্যৎ কী বাঁচাবে?” মোদীর এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে বিতর্কের ঝড়।

রাজ চক্রবর্তীর মোক্ষম জবাব: “আগে পড়াশুনো করুন” টিভি নাইন বাংলার তরফে যোগাযোগ করা হলে রাজ চক্রবর্তী স্পষ্ট জানান, বাংলা নিয়ে কথা বলতে হলে আগে বাংলার আবেগ এবং ইতিহাস বুঝতে হবে। রাজ বলেন, “যাদবপুর বা প্রেসিডেন্সির পড়ুয়াদের মেধা বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। আমাদের এখানে চায়ের দোকান থেকে কলেজের কমন রুম— রাজনীতি নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়। এটা বাংলার কালচার।” প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, “বাংলা দখল করব বললেই হয় না, বাংলাকে জানতে হয়। তিনি না জেনেই এসব কথা বলছেন।”

“এত নিচে নামলেন কীভাবে?”— ক্ষুব্ধ মমতা প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যে ব্যথিত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন। কেন্দ্রের নিজস্ব ‘NIRF’ র‍্যাঙ্কিংয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আপনার সরকারের র‍্যাঙ্কিংয়েই যাদবপুর বছরের পর বছর শীর্ষস্থান দখল করে। সেই উৎকর্ষ কেন্দ্রকে আপনি এভাবে অপমান করলেন? আপনি এত নিচে নামতে পারলেন?” মমতার দাবি, প্রশ্ন করার ক্ষমতাই হলো প্রকৃত শিক্ষা, একে নৈরাজ্য বলা চলে না।

যাদবপুরের মতো স্পর্শকাতর ইস্যু নিয়ে ভোটের আগে মোদী বনাম রাজ-মমতা লড়াই যে নতুন মাত্রা পেল, তা বলাই বাহুল্য।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy