২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশলে তৃণমূলের প্রধান অস্ত্র যে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’, তা ফের একবার স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবারের জনসভাগুলো থেকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের নতুন উপভোক্তাদের উদ্দেশ্যে এক বিশেষ অভয়বাণী শোনালেন তিনি।
কী বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী? সম্প্রতি ‘দুয়ারে সরকার’ এবং বিশেষ ক্যাম্পের মাধ্যমে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে অনেক নতুন আবেদন জমা পড়েছে। তাঁদের উদ্দেশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আপনারা যাঁরা নতুন নাম লিখিয়েছেন, তাঁরা চিন্তা করবেন না। আমি থাকতে এই প্রকল্প কেউ বন্ধ করতে পারবে না। যতদিন আপনারা বাঁচবেন, ততদিন আপনাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পৌঁছে যাবে।”
টাকা বাড়ানোর আশ্বাস ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন যে, এই প্রকল্পের টাকা ইতিমধ্য়েই বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে সাধারণ মহিলারা মাসে ১৫০০ টাকা এবং তপশিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলারা মাসে ১৭০০ টাকা করে পাচ্ছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “বিজেপি এলে এই প্রকল্প বন্ধ করে দেবে। ওদের ভাঁওতায় ভুলবেন না। মা-বোনেদের সম্মান রক্ষায় এই ভাণ্ডার চিরকাল সচল থাকবে।”
ইস্তাহারের নতুন চমক: তৃণমূলের নির্বাচনী ইস্তাহারের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, ক্ষমতায় ফিরলে কেবল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নয়, ঘরে বসে চিকিৎসকের পরিষেবা এবং বিনামূল্যে রেশন ও স্বাস্থ্যবিমার মতো সুবিধাগুলো আরও উন্নত করা হবে। নতুন উপভোক্তাদের উদ্দেশ্যে তাঁর সাফ কথা— “নিশ্চিন্তে থাকুন, নাম উঠেছে মানেই অধিকার বুঝে পাবেন।”
ভোটের আবহে বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে যাওয়া এই প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন ভোটার ও মহিলাদের সমর্থন যে শাসকদলের অন্যতম বড় লক্ষ্য, মমতার এদিনের ভাষণেই তা পরিষ্কার হয়ে গেল।





