২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বঙ্গ রাজনীতিতে এক বিশাল রদবদল ঘটে গেল। খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পশ্চিমবঙ্গ সফরের দিনেই বড়সড় ধাক্কা খেল গেরুয়া শিবির। দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) ত্যাগ করে তৃণমূল কংগ্রেসে (TMC) যোগ দিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রপৌত্র চন্দ্র কুমার বসু।
তৃণমূলে যোগ দিয়ে কী বললেন চন্দ্র বসু? রবিবার কলকাতায় তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে ঘাসফুল শিবিরের পতাকা হাতে তুলে নেন তিনি। যোগদানের পরই বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে চন্দ্র বসু বলেন:
“বিজেপিতে যোগ দেওয়া আমার জীবনের একটি ঐতিহাসিক ভুল ছিল। যে দল বিভাজনের রাজনীতি করে এবং ধর্মের ভিত্তিতে ভোট চায়, তাদের সঙ্গে নেতাজির আদর্শের কোনো মিল নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শই বর্তমান ভারতের সঠিক পথ।”
টাইমিং নিয়ে জল্পনা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই যোগদানের ‘টাইমিং’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
মোদীকে বার্তা: যেদিন প্রধানমন্ত্রী বাংলায় এসে ডবল ইঞ্জিনের কথা বলছেন, ঠিক সেদিনই নেতাজি পরিবারের সদস্যের দলত্যাগ বিজেপির ভাবমূর্তিতে বড় আঘাত।
২০২৬-এর সমীকরণ: বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে চন্দ্র বসুর মতো স্বচ্ছ ভাবমূর্তির মানুষকে পাশে পাওয়া তৃণমূলের জন্য এক বড় নৈতিক জয়।
বিজেপির প্রতিক্রিয়া চন্দ্র বসুর দলত্যাগ নিয়ে বিজেপি নেতৃত্ব খুব একটা গুরুত্ব দিতে নারাজ। দলের একাংশের দাবি, “উনি দীর্ঘদিন ধরেই দলের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখছিলেন। তাঁর চলে যাওয়াতে দলের কোনো ক্ষতি হবে না।” যদিও তৃণমূলের দাবি, এটি আসলে বিজেপির পতনের শুরু।
সংবাদের প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, ২০২৩ সালেই আদর্শগত পার্থক্যের কথা বলে বিজেপি ছেড়েছিলেন চন্দ্র বসু। এরপর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা ছিল তুঙ্গে। আজ মোদীর বঙ্গ সফরের দিনেই সেই জল্পনার অবসান ঘটল।





