মে মাসের ১০ তারিখ পার, তবুও কেন ফাঁকা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের অ্যাকাউন্ট? তবে কি চিরতরে বন্ধ হচ্ছে ভাতা!

রাজ্যের কোটি কোটি মহিলার মনে এখন একটাই প্রশ্ন— ‘টাকা কবে ঢুকবে?’ মে মাসের ১০ তারিখ অতিক্রান্ত, অথচ লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের কোনো এসএমএস আসেনি উপভোক্তাদের মোবাইলে। সাধারণত মাসের প্রথম ১০ দিনের মধ্যেই অ্যাকাউন্টে ভাতার টাকা পৌঁছে যায়। ফেব্রুয়ারি মাস থেকে সাধারণ জাতির মহিলারা ১৫০০ টাকা এবং সংরক্ষিত শ্রেণির মহিলারা ১৭০০ টাকা করে পাচ্ছিলেন। কিন্তু এই মাসে হঠাৎ ছন্দপতনে দুশ্চিন্তার কালো মেঘ ঘনিয়েছে গ্রাম থেকে শহর সর্বত্র।

পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছিল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের হাত ধরে ৫০০ টাকা দিয়ে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের গুরুত্ব অপরিসীম। সময়ের সঙ্গে সেই টাকার পরিমাণ ধাপে ধাপে বেড়ে দেড় হাজার এবং ১৭০০ টাকায় পৌঁছেছে। তবে শুধু লক্ষ্মীর ভাণ্ডারই নয়, কন্যাশ্রী, যুবশ্রী, বিধবা ভাতা এবং বার্ধক্য ভাতার টাকাও চলতি মাসে এখনও অনেকের অ্যাকাউন্টে ঢোকেনি বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

এই অচলাবস্থার নেপথ্যে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সমীকরণ খুঁজছেন বিশেষজ্ঞরা। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার আগেই ঘোষণা করেছিল ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের কথা। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, ক্ষমতায় এলে রাজ্যের সকল মহিলা মাসে ৩০০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে, তবে কি নতুন প্রকল্প চালু করার তোড়জোড় চললে বলেই পুরনো প্রকল্পের টাকা আটকে দেওয়া হলো?

বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশের মতে, যেহেতু লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পূর্বতন সরকারের মস্তিষ্কপ্রসূত একটি প্রকল্প ছিল, তাই প্রশাসনিক পরিবর্তনের ফলে এর ভবিষ্যত নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। আবার অনেক প্রশাসনিক আধিকারিক মনে করছেন, নতুন ভাতা তথা ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ চালু হওয়ার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চলতে পারে। কিন্তু কারিগরি সমস্যা না কি প্রকল্পের স্থায়ী অবসান— ঠিক কী কারণে এই মে মাসে টাকা ঢুকছে না, তা নিয়ে এখনও সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো বিবৃতি আসেনি।

নবান্ন বা বর্তমান সরকারি দপ্তরের চূড়ান্ত নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছেন লক্ষ লক্ষ উপভোক্তা। ৩০০০ টাকার প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অন্তত আগের ভাতাটুকু চালু থাকবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে যাওয়ার এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে রাজ্যের মহিলারা যে চরম আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy