মেসি ইভেন্টকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা এখন কলকাতা হাইকোর্টের করিডোরে নতুন উত্তাপ ছড়াচ্ছে। প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে সিঙ্গল বেঞ্চের দেওয়া অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এবার সরাসরি ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হলেন শতদ্রু দত্ত। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে এই আপিল দায়ের করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহেই এই মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা রাজ্য রাজনীতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে আয়োজিত লিওনেল মেসির ইভেন্ট ঘিরে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল, তা নিয়েই বর্তমানে আইনি লড়াই তুঙ্গে। সেই ঘটনায় প্রায় ৩৮ দিন জেল খাটতে হয়েছিল শতদ্রু দত্তকে। পরবর্তীতে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন হতেই শতদ্রু দত্ত প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় একাধিক গুরুতর অভিযোগ দায়ের করেন। শতদ্রুর দাবি, ওই অনুষ্ঠানে প্রশাসনিক গাফিলতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং কোটি কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে বিধাননগর দক্ষিণ থানা অরূপ বিশ্বাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিস পাঠায়। আইনি সুরক্ষা পেতে তড়িঘড়ি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন প্রাক্তন মন্ত্রী। গত ১০ জুন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ অরূপ বিশ্বাসকে শর্তসাপেক্ষ অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ প্রদান করে। আদালতের নির্দেশ ছিল, আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত ওই এফআইআরের ভিত্তিতে প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনো কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না। তবে আদালত একই সঙ্গে তদন্ত প্রক্রিয়া স্থগিত করেনি; বরং স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল যে, তদন্তে প্রাক্তন মন্ত্রীকে অবশ্যই সহযোগিতা করতে হবে। শুধু তাই নয়, অরূপ বিশ্বাসের বারবার হাজিরা এড়ানোর প্রবণতায় আদালত তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছিল, পুলিশের ডাকে নির্দিষ্ট সময়ে হাজিরা দিতেই হবে।
শতদ্রু দত্তর আইনজীবীর দাবি, মামলার গুরুত্ব এবং অভিযোগের যে ভয়াবহতা, তাতে অভিযুক্তকে এমন রক্ষাকবচ দেওয়া আইনত প্রশ্নসাপেক্ষ। নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থেই সিঙ্গল বেঞ্চের ওই নির্দেশ পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাঁরা। শতদ্রু দত্তর এই নতুন আপিল আইনি লড়াইকে এক ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গেল। রাজনৈতিক মহলের মতে, যদি ডিভিশন বেঞ্চ অরূপ বিশ্বাসের রক্ষাকবচ নিয়ে কোনো নতুন নির্দেশ দেয় বা তা খারিজ করে দেয়, তবে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর জন্য পরিস্থিতি অনেক বেশি জটিল হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে, মেসি বিতর্ক থেকে শুরু হওয়া এই মামলা এখন কেবল ইভেন্ট পরিচালনার অব্যবস্থা নয়, বরং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও আইনি সমীকরণের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। আগামী সপ্তাহের সম্ভাব্য শুনানিতে এই মামলার ভবিষ্যৎ এবং প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর আইনি অবস্থান অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে যাবে। নজর থাকবে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দিকে।





