মে মাসের তপ্ত দুপুরে কলকাতা পুরসভার অলিন্দে এখন হিমশীতল নীরবতা। রাজ্য রাজনীতির পটপরিবর্তন এবং নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বড়সড় পদক্ষেপ নিলেন বিদায়ী সরকারের হেভিওয়েট নেতা তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। আচমকাই পুরসভার আধিকারিক ও কাউন্সিলরদের নিয়ে তৈরি অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে লিভ নিলেন ‘ববি’। মেয়রের এই আকস্মিক প্রস্থান ঘিরে এখন তুঙ্গে জল্পনা— তবে কি এবার পদত্যাগও সময়ের অপেক্ষা?
শনিবার বিকেলে যখন নবান্নে নতুন সরকারের প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়ই ডিজিটাল দুনিয়ায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। কলকাতা পুরসভার কাজকর্মে গতি আনতে এবং জরুরি সমন্বয়ের জন্য তৈরি করা মূল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপটি থেকে আচমকা বেরিয়ে যান ফিরহাদ হাকিম। এর কিছুক্ষণ পরেই পুরসভার অন্দরে খবরটি দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যে প্রশাসনিক পালাবদলের পর নৈতিক কারণেই হয়তো এই দূরত্ব বজায় রাখতে চাইছেন ফিরহাদ। নতুন সরকার আসার পর পুরসভার প্রশাসনিক কাঠামোতেও বড়সড় রদবদল হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। বিশেষ করে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী যখন ইতিমধ্যেই পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে নিজের টিম সাজাতে শুরু করেছেন, তখন ফিরহাদ হাকিমের এই গ্রুপ ত্যাগ কার্যত ‘দেওয়াল লিখন’ স্পষ্ট করে দিচ্ছে।
জল্পনা তুঙ্গে
পুরসভার কাউন্সিলরদের একাংশের মতে, মেয়র হয়তো ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি আর প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকতে আগ্রহী নন। তবে কি খুব শীঘ্রই মেয়রের পদ থেকে ইস্তফা দিতে চলেছেন তিনি? নাকি নতুন সরকারের সঙ্গে কোনও রকম সংঘাত এড়াতেই এই নীরব প্রস্থান? এই নিয়ে এখন সরগরম ধর্মতলার পুরভবন।
যদিও ফিরহাদ হাকিমের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সরকার বদলের প্রথম দিনেই কলকাতার মেয়রের এমন সিদ্ধান্ত যে নিছক কাকতালীয় নয়, তা মেনে নিচ্ছেন রাজনীতির কারবারিরা।





