উত্তরপ্রদেশের কানপুরে প্রতিবাদের ভাষা যেন প্রতিদিন নতুন মাত্রা পাচ্ছে। কখনও মাটিতে গড়াগড়ি দেওয়া, আবার কখনও পোশাক ত্যাগ করে সত্যাগ্রহ—নেতাদের প্রতিবাদের এই অভিনব পন্থা এখন রাজ্যজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে। এবার কানপুরের জুহি এলাকার বেহাল রাস্তার প্রতিবাদে কাদা-জলে শুয়ে অভিনব বিক্ষোভ দেখালেন ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর এবং বর্তমান কাউন্সিলরের স্বামী সুনীল কানোজিয়া। তাঁর এই প্রতিবাদের ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই তা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
দীর্ঘ দুই বছর ধরে মেট্রো প্রকল্পের কাজের জেরে জুহি এলাকার রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। রাস্তার বিশাল গর্ত, জমে থাকা জল এবং কাদায় সয়লাব পুরো এলাকা। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের দৈনন্দিন জীবন নরক যন্ত্রণা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, রাস্তা বেহাল থাকায় ক্রেতারা দোকানে আসতে পারছেন না, ফলে ব্যবসা লাটে ওঠার উপক্রম হয়েছে। অন্যদিকে, নিয়মিত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। প্রশাসনের দরজায় বারবার কড়া নাড়লেও সুরাহা মেলেনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
রবিবার সকালে এলাকার মানুষজনকে নিয়ে প্রতিবাদে পথে নামেন সুনীল কানোজিয়া। তাঁদের প্রতিবাদের ধরণ ছিল একেবারেই আলাদা। বিক্ষোভকারীরা রাস্তার জমে থাকা নোংরা জলে প্রথমে দুধ ও ফুল অর্পণ করে যেন একপ্রকার ‘পুজো’ করলেন। এরপর সুনীল কানোজিয়া নিজে সেই কাদা-জলে শুয়ে গড়াগড়ি দিতে থাকেন। উদ্দেশ্য একটাই—প্রশাসনের ঘুম ভাঙানো।
সুনীল কানোজিয়ার সরাসরি অভিযোগ, মেট্রো নির্মাণ সংস্থার চরম গাফিলতি এবং স্থানীয় প্রশাসনের উদাসীনতার কারণেই এই পরিস্থিতি। তিনি বলেন, “দুই বছর ধরে মানুষ এই দুর্ভোগ সহ্য করছে। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগগুলো একে অপরের দিকে দায় ঠেলে সময় নষ্ট করছে।” তিনি হুঙ্কার ছেড়েছেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রাস্তা মেরামত ও নির্মাণের কাজ শুরু না হলে, তিনি স্থানীয়দের নিয়ে সোজা মেট্রো অফিসে গিয়ে কর্মকর্তাদের ঘি ও গুড় দিয়ে ‘পুজো’ করবেন।
বিক্ষোভ চলাকালীন এলাকাটি স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলছেন, মেট্রো প্রকল্পের অধিকাংশ কাজ শেষ হওয়ার পরেও রাস্তাগুলো আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হচ্ছে না কেন? প্রশাসনের এই নীরবতাকে ঘিরে তীব্র ক্ষোভ দানা বাঁধছে।
উল্লেখ্য, কানপুরে এই ধরনের অদ্ভুত প্রতিবাদের ঘটনা এই প্রথম নয়। কিছুদিন আগেই সমাজবাদী পার্টির বিধায়ক অমিতাভ বাজপেয়ী নানা রাও পার্কের সুইমিং পুল চালু না হওয়ার প্রতিবাদে মাটিতে সাঁতার কেটে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন। পরে স্কুল নির্মাণের দাবিতে বস্ত্র ত্যাগ করে সত্যাগ্রহ করার মতো নজিরও তৈরি করেছেন তিনি। রাজনীতির ময়দানে প্রতিবাদের এই নতুন ধরণ প্রশাসনকে কতটা চাপে ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





