‘মেজদা’ হেমন্তর জন্মদিনে চোখের জল বিশ্বজিতের! মুম্বইয়ের সেই অজানা দিনগুলোর কথা ফাঁস করলেন অভিনেতা

সুরের জাদুকর হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের ১০৬তম জন্মবার্ষিকী। কিংবদন্তি এই শিল্পীকে স্মরণ করতে গিয়ে স্মৃতিমেদুর হয়ে পড়লেন বর্ষীয়ান অভিনেতা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়। ইটিভি ভারতের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি শুধু সহকর্মী হিসেবে নন, বরং এক অভিভাবক ও ‘মেজদা’ হিসেবে হেমন্ত কুমারকে ফিরে দেখলেন।

মুম্বইয়ে হাতেখড়ি ‘মেজদা’র হাত ধরেই বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বলিউড যাত্রা ও সাফল্যের নেপথ্যে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের অবদান অনস্বীকার্য। অভিনেতা জানান, তাঁর বম্বে যাত্রার মূল কান্ডারি ছিলেন হেমন্ত নিজেই। বিশ্বজিতের কথায়, ‘‘বম্বেতে আমি প্রতিষ্ঠিত হয়েছি ওঁর জন্যই। ‘বিশ সাল বাদ’ ছবিতে উনি আমাকে প্রথম কাজের সুযোগ দেন, যা আমার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল।’’

পারিবারিক সম্পর্ক এতটাই গভীর ছিল যে, হেমন্তের ভাইদের মতোই বিশ্বজিৎ তাঁকে ‘মেজদা’ বলেই সম্বোধন করতেন।

মাকে দেওয়া সেই বিশেষ উপহার হেমন্তর কণ্ঠের জাদু সম্পর্কে স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে বিশ্বজিৎ বলেন, ‘‘উনি ঈশ্বরদত্ত কণ্ঠ নিয়ে জন্মেছিলেন। আমার মা ওঁর গানের বড় ভক্ত ছিলেন। মা প্রায়ই বলতেন, ‘এমন এক নতুন কণ্ঠ এসেছে, যা শুনতে শুনতেই ঘুম এসে যায়।’ শচীন দেব বর্মন বা পঙ্কজ মল্লিকের সমসাময়িক হওয়া সত্ত্বেও মায়ের কাছে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের জায়গা ছিল সবার উপরে। ছোটবেলায় মায়ের সাথে বসেই ওঁর গান শুনতাম, পরে সেই মানুষটির সঙ্গেই আমার ওঠাবসা ও পারিবারিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।’’

পর্দার আড়ালের ‘মেজদা’ পেশাদার শিল্পী হিসেবে হেমন্ত ছিলেন অত্যন্ত শৃঙ্খলাপরায়ণ, কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন প্রাণখোলা। মুম্বইয়ের ব্যস্ত জীবনে তাঁর জন্মদিন পালন হতো অত্যন্ত অনাড়ম্বরে। অভিনেতা বলেন, ‘‘ওঁর ‘গীতাঞ্জলি’ বাড়িতে আমরা অপেক্ষা করতাম। মেজদা কাজ সেরে ফিরলে সামান্য কেক কাটতেন, এর বেশি আড়ম্বর তিনি পছন্দ করতেন না।’’

তবে মানুষকে আনন্দ দিতে হেমন্ত ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ‘বিশ সাল বাদ’-এর সাফল্যের পর পুরো পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে গোয়া ভ্রমণে গিয়ে তিনি সকলের খাওয়ার দায়িত্ব নিজে নিয়েছিলেন। বিশ্বজিৎ বলেন, ‘‘তিনি মানুষকে খাওয়াতে ভালোবাসতেন। সবাই আনন্দ করছে দেখে তিনি সবচেয়ে বেশি সুখী হতেন।’’

শিল্পীর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা হেমন্ত মুখোপাধ্যায় কেবল গায়ক বা সঙ্গীত পরিচালক নন, বিশ্বজিতের কাছে তিনি ছিলেন আজীবনের প্রেরণা। সুর ও গানের পাশাপাশি শিল্পী-জীবনের পেশাদারিত্বের পাঠও তিনি নিয়েছেন এই মানুষটির কাছেই। আজ ১০৬তম জন্মবার্ষিকীতে তাঁর সেই মায়াবী কণ্ঠ ও অভিভাবকত্বের অভাব আজও একইভাবে অনুভব করছেন বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy