পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই ভোটার তালিকা সংশোধন বা SIR (Summary Internal Revision) নিয়ে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে রাজ্য রাজনীতি। এবার সেই আগুনে ঘি ঢাললেন খোদ নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। বোস্টন থেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সাফ জানিয়েছেন, যেভাবে তাড়াহুড়ো করে SIR প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে, তাতে ভারতের গণতন্ত্র বিপন্ন। বিশেষ করে সংখ্যালঘু মুসলিম এবং প্রান্তিক হিন্দুরা এর ফলে ‘টার্গেট’ হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
“আমিও রেহাই পাইনি”: নিজের অভিজ্ঞতায় ক্ষুব্ধ অমর্ত্য ৯২ বছর বয়সী এই বিশ্ববরেণ্য অর্থনীতিবিদ জানান, তাঁকেও নির্বাচন কমিশনের ‘কঠিন পরীক্ষা’র মুখোমুখি হতে হয়েছে। শান্তিনিকেতনের স্থায়ী ভোটার হওয়া সত্ত্বেও তাঁর নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অমর্ত্য সেন বলেন, “আমার প্রয়াত মায়ের বয়স নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আধিকারিকরা, অথচ মা নিজেই ভোটার ছিলেন। গ্রামীণ ভারতের অনেকের মতো আমারও জন্ম শংসাপত্র নেই। বন্ধুদের সাহায্যে কোনোমতে প্রমাণ দিয়েছি। কিন্তু সাধারণ গরিব মানুষের কী হবে?”
সংখ্যালঘু ও হিন্দুদের একাংশ সঙ্কটে? অমর্ত্য সেনের অভিযোগ, হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর অতি-সক্রিয়তায় ভারতের মুসলিমরা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। তাঁর আশঙ্কা, SIR-এর নামে এই তাড়াহুড়ো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র হতে পারে। তিনি আরও যোগ করেন, শুধুমাত্র মুসলিমরাই নন, হিন্দুদের একটি অংশও এই প্রক্রিয়ায় টার্গেটেড হতে পারেন। তাঁর মতে, প্রয়োজনীয় নথির অভাবে দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
রাজনৈতিক ফায়দা ও কমিশনের ভূমিকা: SIR-এর ফলে কি বিজেপির সুবিধা হবে? এই প্রশ্নের উত্তরে অমর্ত্য সরাসরি রাজনৈতিক মন্তব্য না করলেও জানান, “আমি শুনেছি এই আন্ডার-অ্যাকাউন্টিংয়ের ফলে বিজেপির লাভ হতে পারে।” তবে তিনি মনে করেন, কার লাভ হচ্ছে দেখার চেয়ে জরুরি হলো একজনও বৈধ ভোটার যাতে বাদ না যান। নির্বাচন কমিশন ও সুপ্রিম কোর্টকে এ বিষয়ে কড়া নজরদারি চালানোর আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
৯২ বছর বয়সেও বাংলার ভোটে অংশ নিতে মুখিয়ে আছেন এই বৃদ্ধ অর্থনীতিবিদ। তবে কমিশনের এই ‘অস্বাভাবিক তৎপরতা’ নিয়ে তাঁর উদ্বেগ এখন জাতীয় রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।