পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন সাসপেন্ড হওয়া তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ূন কবীর। হাইকোর্টের সবুজ সঙ্কেত মেলার পরই এই কর্মসূচি মহা সমারোহে সম্পন্ন হয়। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তৃণমূলের বিড়ম্বনা বাড়িয়ে হুমায়ুন কবীর মসজিদ নির্মাণ নিয়ে বিরাট পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন।
প্রস্তাবিত এই বাবরি মসজিদ তৈরি করতে আপাতত ৩০০ কোটি টাকার বাজেট ধরা হয়েছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, হুমায়ুন কবীর স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এই টাকার এক পয়সাও তিনি সরকারের থেকে নেবেন না। তাঁর মতে, সরকারের টাকায় মসজিদ তৈরি হলে “পবিত্রতা নষ্ট হবে”। পুরো অর্থই সংগ্রহ করা হবে সংখ্যালঘুদের অনুদান থেকে।
এদিনের মঞ্চ থেকেই হুমায়ুন কবীর এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে আনেন। তিনি জানান, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যক্তি মসজিদ নির্মাণের জন্য আগামী এক মাসের মধ্যে ৮০ কোটি টাকা তাঁর সংস্থাকে অনুদান দেবেন।
কে সেই ব্যক্তি? এই প্রশ্নের জবাবে হুমায়ূন কবীর বলেন, “এক জন রয়েছেন, তিনি নাম করতে বারণ করেছেন। আগামী ১ মাসের মধ্যে ৮০ কোটি টাকা আমার সংস্থাকে দেবে। কোম্পানি থেকে দেবে। টাকার কোনও অভাব হবে না।”
হুমায়ুনের হাতে রয়েছে মোট ২৫ বিঘা জমি। যার মধ্যে আপাতত ৩ কাঠা জমির ওপর মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। তবে এই ২৫ বিঘা জমিতে কেবল মসজিদ নয়, সেখানে একটি ইসলামিক হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, হেলিপ্যাড এবং মুসাফিরখানাও তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন হুমায়ূন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোটের মুখে এই ঘটনা তৃণমূলকে চূড়ান্ত বিড়ম্বনায় ফেলেছে। সাসপেন্ড হওয়া সত্ত্বেও হুমায়ূন কবীরকে কেন্দ্র করে যে অস্বস্তি সৃষ্টি হয়েছে, তা দলকে দীর্ঘদিন বয়ে নিয়ে যেতে হতে পারে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনাকে ‘সংখ্যালঘু কার্ড’ বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, হুমায়ূন সংখ্যালঘু প্রার্থীর বিষয়ে মিথ্যে তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন।