মুছে গেল PMO-ক্যাবিনেট সচিবালয়ের নাম! মোদী জমানায় ‘সেবা তীর্থ’ হল ক্ষমতার অলিন্দ, কেন এই বদল?

ভারতের প্রশাসনিক কাঠামোর ভোল পাল্টে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ঔপনিবেশিক মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার ডাক দিয়ে এবার দেশের ক্ষমতার প্রধান তিনটি স্তম্ভ— প্রধানমন্ত্রীর দফতর (PMO), জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ সচিবালয় (NSCS) এবং ক্যাবিনেট সচিবালয়ের নতুন নামকরণ করলেন তিনি। এখন থেকে এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান মিলিতভাবে পরিচিত হবে ‘সেবা তীর্থ’ নামে। আজ এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই নতুন কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

কেন এই নামবদল? উদ্বোধনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী মোদী স্পষ্ট করেন যে, ‘দফতর’ বা ‘সচিবালয়’ শব্দগুলোর মধ্যে এক ধরণের ব্রিটিশ আভিজাত্য বা আমলাতান্ত্রিক দূরত্বের গন্ধ লেগে আছে। কিন্তু গণতান্ত্রিক ভারতে সরকারের মূল কাজ হলো মানুষের সেবা করা।

“সরকার কোনো শাসনকর্তা নয়, বরং জনগণের সেবক। ‘সেবা তীর্থ’ নামটি সেই সেবার মানসিকতাকেই প্রতিফলিত করবে।” — নরেন্দ্র মোদী।

কী থাকছে এই নতুন ‘সেবা তীর্থ’-এ? সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের অধীনে নির্মিত এই নতুন কাঠামোর বৈশিষ্ট্যগুলি এক নজরে:

  • সমন্বিত শাসন ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রীর দফতর এবং ক্যাবিনেট সচিবালয় এখন থেকে একই ছাদের তলায় আরও সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

  • সুরক্ষা কবচ: জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ সচিবালয়কেও (NSCS) এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নিরাপত্তাকে আরও নিশ্ছিদ্র করবে।

  • অত্যাধুনিক প্রযুক্তি: সম্পূর্ণ ডিজিটাল এবং পেপারলেস কার্যপদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে এই নতুন চত্বর তৈরি করা হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন: বিশ্লেষকদের মতে, ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে প্রশাসনিক সংস্কারের এটি একটি বড় পদক্ষেপ। তবে বিরোধীরা ইতিমধ্যেই এই নামবদল নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। তাদের দাবি, নাম বদলে কাজের গতি কতটা বাড়বে সেটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

নতুন এই ‘সেবা তীর্থ’ ভারতের ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কতটা সফল হয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে গোটা দেশ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy